বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাড়ালে সামনে ব্যানার টেনে নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এসময় তারা চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে, যদিও থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এই ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করে ভিসি’র অপসারণ দাবিতে শ্লোগান দেন।
ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের নেতা ফিরোজুল ইসলাম নয়ন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী চাকরিতে ৩০ ভাগ মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য ৩০ ভাগ সংরক্ষিত আসন থাকে। কিন্তু সে নিয়ম না মেনে উপাচার্য কতিপয়-কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইন্ধনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। কোঠা বাদ দেওয়া, সিন্ডিকেট সভায় পাশ না করাসহ নানান অভিযোগ রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে।
এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্দ হয়েছেন, বরিশাল শহরে ভিসির অপসারন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনও করেছেন। সেখানে আজ মুক্তিযোদ্ধারে বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এ মানববন্ধন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অপচেষ্টা। তাই এর প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওই কর্মসূচি প্রতিহত করে দেয়।
ববি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ক’দিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং অনান্য সংগঠন মিলে উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হকের অপসারণ ও কটুক্তি করায় আজ শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। এসময় কতিপয় শিক্ষার্থী কর্মসূচি ভন্ডুল করে দেয়।
এ বিষয়ে ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, অসত্য কাহিনী বানিয়ে তার বিরুদ্ধে শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে বিভিন্ন সংগঠন। যেখানে তাকে স্বাধীনতা বিরোধী ও দুর্নীতিবাজ বানানো হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করলে তারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এসময় কতিপয় ছাত্র ছাত্রলীগের ব্যানারে স্লোগান দিতে দিতে কর্মসূচিস্থলে এসে ব্যানার নিয়ে যায়। এসময় তারা শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে অশালীন বক্তব্যও প্রদান করেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জেনে শুনেই তো নিয়োগ দিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী সবকিছু করা হচ্ছে। কোনো এক মহল উস্কানি দিয়ে এমনটা করাচ্ছে হয়তো। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আর যারা আন্দোলনের পেছনে রয়েছেন তারা রিট করেও কিন্তু হেরেছন।
তিনি বলেন, যারা আজ শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, তারা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির খবর পেয়ে এসেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছেন। কতিপয় ছাত্র শিক্ষকদের হাত থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগ মৌখিকভাবে শুনেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৭ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০১৭
এমএস/বিএস