হাসানের পুরো ভাবনাজুড়ে শিশুর বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী। শহরজুড়ে হাসান দেখতে পায় শিশুদের খেলার মাঠসহ অন্যান্য বিচরণক্ষেত্রগুলো কীভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে।
এটি দেড় ঘণ্টার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চোখ’-এর বিষয়বস্তু। গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় মুহম্মদ মোফাজ্জল। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে এর দৃশ্যধারণ। এতে হাসানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মহিম মিজান। অন্যান্য চরিত্রে আরও আছেন আইরিন তানি, চন্দন রেজা, অভিজিৎ সেনগুপ্ত, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, মাহমুদা মৌমিতা, জুহানাত ও টোকাই নাট্যদলের কিছু কর্মীসহ অনেকে। এ ছাড়া গল্পের প্রয়োজন ও অভিনয়ে সাবলীলতার জন্য চলচ্চিত্র সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপকরা অভিনয় করেছেন।
নির্মাতা মোহাম্মদ মুফাজ্জল বললেন, ‘আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া এলাকাগুলোতে প্রতিযোগিতার নামে শিশুদের ওপর চলে অভিভাবকদের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। প্রতিটি শিশুকে যেন একাধারে ক্লাসে, নাচে, গানে এবং অভিনয়ে প্রথম হতে হবে। স্কুল কারিক্যুলাম ও অন্যান্য কাজের এবং অতি অল্প বয়সে টেলিভিশন, মোবাইল-ট্যাবের চাপে শিশুরা কোনঠাসা। পৃথিবীটা শিশুদের হাতের মুঠোয় থাকলেও তাদের বাস্তবিক জগৎটা সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। ছবিটিতে হাসান চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমরা সেটাই দেখানোর চেষ্টা করছি। তবে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের বিরুদ্ধে নয়। শিশুদের মোবাইল-ট্যাবের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ’
তিনি আরও জানান, শিশুর আশ্রয়স্থল পৃথিবীর ওপর মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব সাংবাদিক হাসানের উদ্বেগের আরেকটি কারণ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ‘চোখ’ চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে আহত সাংবাদিক হাসান রাজধানী শহর ছেড়ে চলে যায় পাহাড়ের কাছে। সেখানে প্রকৃতির কোলে সে শিশুদের একটি স্কুল চালু করে। এই চলচ্চিত্রে রয়েছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে শহুরে শিশুদের ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের ফলে তাদের মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সবশেষ তথ্য।
বাংলাদেশ সময় : ১৯০৯ ঘণ্টা, জুন ৭, ২০১৫
জেএইচ