এপ্রিলে যে কোনো সময় আসতে পারে ঝড়। সমুদ্র এখন স্বাভাবিকভাবেই উত্তাল।
বলছিলেন সাঁতারু শামসুজ্জামান আরাফাত। এবারের সাঁতারে অংশ নেন গত ১১ বছরে ১১ বার পাড়ি দেওয়া লিপটন সরকার, ৪ বার পাড়ি দেওয়া ফজলুল কবির সিনা, ৫ বার পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহক মনিরুজ্জামান ও ২ বারের সাঁতারু এবং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া দৌড়ে পাড়ি দেওয়া শামছুজ্জামান আরাফাত। সাঁতারের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লিপটন সরকার। নেভিগেশন ও রেসকিউ টিম লিডারের দায়িত্ব পালন করেন সাজ্জাদ খান রনি।
মূলত বাংলা চ্যানেল সাঁতরানোর চ্যালেঞ্জ শুরু হয় টেকনাফ জেটি ঘাট থেকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে পরনে শর্টস ও চোখে ছোট্ট গগলস ছাড়া আর কিছু পরিধান করার নিয়ম নেই এ সাঁতারে। এমনকি সঙ্গে থাকা সহায়তার জন্য বোটেও হাত রাখা যাবে না। এই নিয়ম মেনেই দীর্ঘ এ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়েছেন এ চারজন। এবার এ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ১৫ বছরের কিশোর সাকিব আল হক।
দীর্ঘদিন থেকে এ সাঁতারের সঙ্গে ছিলেন ফজলুল কবীর সিনা। ‘প্রথম দিকে স্নোর কেলিংয়ের মাধ্যমে আমরা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পাড়ি দিতাম। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়মে যা সঠিক ছিলো না। ২০১২ সালের দিকে আমরা আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে শুরু করি। এই সাঁতারের চেয়ে প্রস্তুতি পর্বটি কিন্তু কোনো অংশেই কম না। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের পুকুরের প্রতিদিন এক টানা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সাঁতরাতাম। বাংলা চ্যানেল সাঁতরাতে হলে প্রস্তুতি পর্বে সাঁতারুকে অবশ্যই এই সময়ে একটানা সাঁতরানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে ষোল কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে এই সাঁতার বত্রিশ কিলোমিটার অর্থাৎ, টেকনাফ থেকে শুরু করে সেন্টমার্টিনে গিয়ে আবার ফিরতি পথে টেকনাফ পর্যন্ত সাঁতরানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। ’
বাংলা চ্যানেল আবিষ্কার করেছিলেন কীর্তিমান ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার মরহুম কাজী হামিদুল হক। ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকা বেজ ক্যাম্পের তিনজন অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় যুবক ফজলুল কবীর সিনা, লিপটন সরকার ও সালমান সাঈদ প্রথমবার এই চ্যানেল অতিক্রম করেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলা চ্যানেল সাঁতার আয়োজন করা হয়। এবারও কাজী হামিদুল হকের স্মরণে ১২তম বাংলা চ্যানেল সাঁতারের আয়োজন করে ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলা। এ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ওয়ালটন।
বাংলাদেশ সময়: ০০২৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৭, ২০১৭
এএ