ঢাকা, বুধবার, ১১ বৈশাখ ১৪৩১, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

আইন ও আদালত

সাবেক এমপি পারভীন হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩০৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪
সাবেক এমপি পারভীন হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ

ঢাকা: সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা’ ও ‘সরকারি তহবিল খরচের’ অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

শরীয়তপুরের এক ভোটারের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

সম্প্রতি আসিফ সরকার নামে শরীয়তপুরের একজন ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিত্ব ত্যাগ না করে পারভিন হক সিকদার সংসদ সদস্য হন বলে অভিযোগ আনেন। আর ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা’ ও ‘পাবলিক ফান্ড খরচের’ এই অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে দুদক বরাবর আবেদন দেন তিনি।

আসিফ সরকারের অভিযোগ মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল পারভিন হক সিকদারকে দশ বছরের জন্য পাসপোর্ট দেয়। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৬ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এই তথ্য গোপন করে একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি ২০১৯ সালে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পারভিন হক তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিধান লঙ্ঘন করে ২০১৯ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এতে তিনি ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে ইচ্ছাকৃত প্রতারণার’ মাধ্যমে আনুষাঙ্গিক সুবিধা লাভ করেন। এর ফলে সরকারি কোষাগারের তসরুপ হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের (শরীয়তপুর) এই সংসদ সদস্যের বিষয়ে দুদকের কোনো সাড়া না পেয়ে আসিফ সরকার হাইকোর্টে রিটটি করেন।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক থাকা সত্ত্বেও তা প্রত্যাহার না করে একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে পারভিন হক সিকদার তথ্য গোপন করে রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণামূলকভাবে সংসদ সদস্য পদে থাকেন। এটি সাংবিধানিকভাবে একটি অপরাধ। আবার ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও গণ্য হয়।

তিনি অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সংসদীয় সুবিধা, সন্মানি, শুল্কমুক্ত গাড়ি সুযোগ–সুবিধা ভোগ করেন। এ বিষয়ে করা রিটে হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন এবং দুদককে ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রিট আবেদনকারীর লিখিত অভিযোগ নিষ্পত্তি করতেও বলেছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ সময়: ২৩০৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪
ইএস/এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।