ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ চৈত্র ১৪৩০, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০২ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

চাঁদপুর জেলা কারাগারের ৯০ ভাগ আসামিই মাদক মামলার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০২৩
চাঁদপুর জেলা কারাগারের ৯০ ভাগ আসামিই মাদক মামলার

চাঁদপুর: চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান বলেছেন, আমি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে প্রতি মাসে চাঁদপুর জেলা কারাগার পরিদর্শনে যাই। সেখানে গেলে দেখা যায়, ৯০ ভাগ আসামিই মাদক মামলার।

 

চলতি মাসেও একবার কারাগার পরিদর্শন করেছি। তখন জানতে পারলাম, ৯০০ আসামি আছেন। সেখানে আট শতাধিকই মাদক মামলার আসামি। তাদের মধ্যে কেউ আছেন মাদক বিক্রেতা, কেউ সেবনকারী। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আমাদের পরিবারগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য, যোগ করেন ডিসি।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা হলরুমে বিভিন্ন পেশার লোকদের অংশগ্রহণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো পেশায় জড়িত। আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি, তাহলে দেখব, আমার সবচাইতে বড় বিনিয়োগ কোথায়? সেটি হচ্ছে, আমার পরিবার ও সন্তান। অর্থাৎ আমরা যত কিছুই করি না কেন, সবই করি পরিবার এবং সন্তানের জন্য। আমি চাইব না, আমার সবচাইতে বড় বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে যাক।

আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করেছি। আমাদের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের অনেক বড় বড় উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। গত দুই বছরের অতিমারি অতিবাহিত হওয়ার পরও আমাদের অবস্থা ভালো আছে। আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার রোধ বিষয়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন, এটি বন্ধ করে দিলে কী সমস্যা? আসলে বন্ধ করা যাবে না। কারণ মাদকদ্রব্য কিন্তু চিকিৎসায়ও ব্যবহার হয়। যেমন প্যাথেড্রিন। এটি কিন্তু এখন নেশারও সামগ্রী। আগে ফার্মেসিতে কাশির সিরাপের বেশ কয়েকটি ওষুধ ছিল। এখন পাওয়া যাচ্ছে না। এটির কারণ হচ্ছে আসক্তি। এ আসক্তি কেন? এগুলো কেন নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, এসব বিষয়ে বিগত ২০ বছরে অনেক আলোচনা হয়েছে টকশোতে, প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ নামে অধিদপ্তর খোলা হয়েছে। কিন্তু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না, যোগ করেন তিনি।

ডিসি বলেন, আমরা ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। সেই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন যদি আমরা বাস্তবে পরিণত করতে চাই, তাহলে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে, শিক্ষার্থীদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।

উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি উপজেলা পর্যায়ে পরিদর্শনে এলে বিদ্যালয়গুলোতে যাই। এতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অর্থাৎ বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই কম। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস। কয়েক মাস পরে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে গিয়ে তাদের বইয়ের প্রথম অধ্যায় থেকে পড়া জিজ্ঞেস করবেন, দেখবেন তারা বলতে পারছে না। তারা পাঠ্যবই নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে না, নিয়ে আসে নোট বই। বাজারে অনেক নোট আছে। সেগুলোর কারণে এখন মূল পড়া থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক দূরে।

মতলব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেনু দাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বি এইচ এম কবির আহমেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এবং কর্মশালার মূল বিষয় পরিসংখ্যান ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইমদাদুল ইসলাম মিঠুন।

উপস্থিত ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেটু কুমার বড়ুয়া, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি বেগম রুনু, মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহিদুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনসহ অনেকে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০২৩
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।