ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

খুবিতে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০২৩
খুবিতে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু

খুলনা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) চারুকলা স্কুলের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী ৬ষ্ঠ বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) চারুকলা প্রাঙ্গণে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।

তিনি বলেন, শিল্পকর্ম আমাদের আন্দোলিত করে। প্রতিটি মানুষের মধ্যে শিল্পীসত্তা লুকায়িত রয়েছে। আমরা সবাই এর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারি না। চারুকলার শিক্ষার্থীরা যা চিন্তা করে, তা তাদের হাতের গুণে শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এটি একটি অনন্য অসাধারণ প্রতিভা।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানের সাথে শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিল্পকলা এমন একটি বিষয়, যা মানুষকে মানুষ হিসেবে তৈরি করে। সভ্যতা মানুষ তৈরি করে। রাষ্ট্র সভ্যতা তৈরি করে না, সহায়তা করে। সভ্যতার মূলে রয়েছে মানুষের চিন্তা শক্তি, যার সাথে জড়িত রয়েছে শিল্পকলা।

উপাচার্য বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা-গবেষণায় নয়, শিল্পচর্চায়ও জেগে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যেতে চারুকলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চারুকলার শিক্ষার্থীরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে নানা ধরনের স্বীকৃতি ও সম্মাননা পাচ্ছেন। যা আমাদের জন্য গর্বের ও আনন্দের বিষয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শিল্পী শশীভূষণ পাল প্রতিষ্ঠিত খুলনা আর্ট কলেজকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একীভূত করে ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তীতে স্কুলে রূপ দেওয়ায় উপাচার্য তৎকালীন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে চারুকলার জন্য পৃথক ভবনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর অমিত রায় চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্য রাখেন চারুকলা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নিহার রঞ্জন সিংহ।

আরও বক্তব্য রাখেন ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. আমিনুল ইসলাম এবং ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিন প্রধান রকিব হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. শেখ সাদী ভূঁইয়া।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের প্রভাষক ফারজানা জামান।

অনুষ্ঠানে ৪টি ক্যাটাগরিতে ৩৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে তাদের শিল্পকর্মের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়। পরে উপাচার্য শিল্পী শশীভূষণ পাল আর্ট গ্যালারিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শিল্পকর্মগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় চারুকলা স্কুলভুক্ত ডিসিপ্লিনসমূহের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টায় চারুকলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রদর্শনী আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রদর্শনীতে ৪ শতাধিক শিল্পকর্ম স্থান পাচ্ছে। প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১২, ২০২৩
এমআরএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।