ঢাকা, সোমবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

চোরাচালান রোধের চ্যালেঞ্জে অংশ নিলেন বিজিবির খাদিজা

শেখ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৬, ২০২৩
চোরাচালান রোধের চ্যালেঞ্জে অংশ নিলেন বিজিবির খাদিজা

চট্টগ্রাম সাতকানিয়া থেকে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হয়ে দেশের গৌরব ধরে রেখেছেন। আমিও একজন নারী।

এই অনুপ্রেরণায় বিজিবির সিপাহি হিসেবে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। সোনার বাংলা গড়তে হলে দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা, অবৈধ চোরাচালান রোধ করা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের অংশ হতে পেরে আমি খুশি।

কথাগুলো বলছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির ১০০তম রিক্রুট ব্যাচের সর্ববিষয়ে দ্বিতীয় ও শারীরিক উৎকর্ষতা (মহিলা) বিষয়ে প্রথমস্থান অধিকারী (বক্ষ নম্বর-৭১৩) সিপাহি খাদিজা খাতুন।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন খাদিজা।

খাদিজা খাতুনের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকায়। পরিবারে তার মা একজন গৃহিণী এবং বাবা পেশায় গাড়িচালক। বাবার উপার্জনে খাদিজার পরিবারের ভরণপোষণ ও তার লেখাপড়া চলে। তিনি যশোর জেলার একটি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি নবীন সিপাহি খাদিজা খাতুন এর আগে বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের একজন তুখোড় খেলোয়াড় ছিলেন। পরিবারের বাবা-মায়ের ইচ্ছায় ও নিজের আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করেই তিনি বিজিবিতে যোগদান করেছেন।

এ বছরের (২০২৩ সালের) গত ১৮ জুন বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি)-তে শুরু হয় বিজিবির ১০০তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে সর্বমোট ৫৮২ জন রিক্রুটের মধ্যে ৫৪৪ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারী রিক্রুট মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য এ প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে সর্ববিষয়ে দ্বিতীয় ও শারীরিক উৎকর্ষতা (মহিলা) বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন নবীন সিপাহি খাদিজা খাতুন।

খাদিজা খাতুন বাংলানিউজকে বলেন, বিজিবি সিপাহি হতে পেরে আমি গর্বিত। আমার বাবা মা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তাদের ভরসায় আমি বিজিবিতে যোগদান করি। এখানে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি। বিজিবির স্যার ওস্তাদজীরা আমার মনে আরও সাহস যোগায়। তাদের সহযোগিতায় আমি ৫৮২ জনের মধ্যে সর্ববিষয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতে পেরেছি। প্রথম হতে পারিনি তবে বিজিবির সিপাহি হিসেবে দেশের সীমান্ত রক্ষায় কাজ করতে পারবো এটাই আমার সৌভাগ্য।

তিনি আরও বলেন, আমি বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান স্যারের হাত থেকে আমি পুরস্কার হিসেবে ক্রেস গ্রহণ করেছি এটা আমার জীবনে একটি বড় পাওয়া। তিনি আমাকে আমার এই কাজের ধারা অব্যাহত রাখতে বলেছেন। আমি জীবন দিয়ে হলেও দেশের স্বার্থে সীমান্তে অত্যন্ত প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাবো।

তিনি বলেন, বিজিবিতে আসার আগে আমি বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড় ছিলাম। খেলোয়াড় হওয়ার কারণে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।

দেশের অন্য নারীদের জন্য আপনি কি বলবেন জানতে চাইলে নবীন সিপাহি খাদিজা খাতুন বলেন, আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীকে দেখে প্রতিটা নারীর উদ্বুদ্ধ হওয়া দরকার। কারণ তিনি একজন নারী হয়ে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি নারী ক্ষমতায়ন প্রসার করেছেন। আমারও অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি।

এ বছর প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে ১০০তম রিক্রুট ব্যাচের সর্ববিষয়ে সেরা চৌকস রিক্রুট, ফায়ারিং ও শারীরিক উৎকর্ষতায় ৪ রিক্রুট সেরা হয়েছেন। তাদের মধ্যে সর্ববিষয়ে সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে প্রথম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর-৩৭২ রিক্রুট (জিডি) ইমরান হোসেন সুয়েব, সর্ববিষয়ে দ্বিতীয় ও শারীরিক উৎকর্ষতা (মহিলা) বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর-৭১৩ সিপাহি খাদিজা খাতুন, ফায়ারিং-এ শ্রেষ্ঠ রিক্রুট বক্ষ নম্বর-৩৭৭ সিপাহি মো. উজ্জ্বল হোসেন এবং শারীরিক উৎকর্ষতা (পুরুষ) বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর-১৪২ সিপাহি জনি হোসেন।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান বলেন, আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনও পিছপা হয় না সে-ই প্রকৃত সৈনিক, বীরযোদ্ধা। সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, আনুগত্য ও নির্ভরযোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মতৎপরতা, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।

তিনি বলেন, তোমাদের ব্যাচে তোমরা সর্বসেরা হয়েছ, বাহিনীতে তোমাদের শৃঙ্খলার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারা সব সময় বজায় রাখাতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৬, ২০২৩
এসজেএ/এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।