ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ বৈশাখ ১৪৩১, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

কোদালি ছড়াজুড়ে ফুটে উঠছে শহরের সৌন্দর্য

ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
কোদালি ছড়াজুড়ে ফুটে উঠছে শহরের সৌন্দর্য কোদালি ছড়ার দু’পাশে নির্মিত হচ্ছে ওয়াকওয়ে। ছবি: বাংলানিউজ

মৌলভীবাজার: দীর্ঘদিন কোদালি ছড়াটি ছিল অবহেলিত। ছিল না পানির গতিধারা।

শহরের পৌর প্রধান কর্তা পরিবর্তিত হলে তিনি বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পৌর নাগরিকরাও শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছড়াতে প্রাণসঞ্চারের দাবি জানান তার কাছে।

সবমিলিয়ে সুবর্ণ সময় চলে আসে ছড়াটিকে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করার। পুনঃসংস্কারের পরপরই পানির গতিধারা দ্রুত বেগে গিয়ে পড়ে হাওরে। ছড়া ঘিরে এখন ফুটে উঠেছে শহরের সৌন্দর্য।

মৌলভীবাজার শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ছড়ার নাম ‘কোদালি ছড়া’। সম্প্রতি এ ছড়ার দুই তীরের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ওয়াক ওয়ে, গাইড ওয়াল নির্মাণ, লাইটিংয়ের কাজ ও খালের তলায় ব্লক ফেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুরো কাজ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে কোদালি ছড়া এলাকাটি দৃষ্টিনন্দন আকর্ষণীয় একটি পর্যটন স্থান হিসেবে পরিণত হবে।

জানা যায়, প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ চলছে। কোনো এক সময়ে মৌলভীবাজার জেলা শহরের প্রধান একমাত্র অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কোদালি ছড়া খাল। দীর্ঘদিনের দখল দূষণে খালটি ক্ষীণ হয়ে ভরাট হয়ে পড়ায় শহরের পুরো পানি নিষ্কাশনের বাঁধার কারণ হয়েছিল। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো।  

এক কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে পৌরসভাসহ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় শহর থেকে হাওর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও দখলমুক্ত হওয়াতে শহরজুড়ে জলাবদ্ধতার অভিশাপমুক্ত হয়। এরই মধ্যে পর্যটন শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবাহিত এ কোদালি ছড়া খাল ও তার আশপাশে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত ও আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তুলতে একটি প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। দুই তীরে পাঁচটি প্যাকেজের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন ওয়াক ওয়ে, গাইড ওয়াল নির্মাণ, রেলিং, লাইটিং, শৌচাগার, বসার বেঞ্চ ও সেসঙ্গে ফুল বাগানসহ নির্মাণ কাজ চলছে। অবশিষ্ট কাজ পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে এটি দর্শনীয় পর্যটন স্থান হিসেবে সবার মন কাড়বে।

এ এ কিউ সি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান শ্যামল জানান, সরকারের সঠিক নিয়মেই কাজ করা হয়েছে। সঠিক সময়েই তা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হবে। পৌরসভার নজরদারিতে গুণগতমান বজায় রেখে কাজ হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পৌরমেয়র মো. ফজলুর রহমান বলেন, একসময় এই কোদালিয়া পৌরবাসীর অভিশাপ ছিল। দখল, ভরাট, সংস্কারহীনতা প্রভৃতি অভাবে এই ছড়ার সৌন্দর্য পুরোপুরি হারিয়ে গিয়েছিল। কোদালি ছড়া এর মধ্যে সংস্কারে পানি নিষ্কাশনসহ অনেক সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সৌন্দর্যবর্ধনে যে কাজ হচ্ছে বাস্তবায়িত হলে, পৌর নাগরিকদের বেড়ানোর জন্য দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট হবে কোদালি ছড়া।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
বিবিবি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।