ঢাকা, শনিবার, ৭ বৈশাখ ১৪৩১, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

পাওনা টাকা আদায়ে দাফনে বাধা, ৯৯৯-এ কল

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০২ ঘণ্টা, মার্চ ৫, ২০২৪
পাওনা টাকা আদায়ে দাফনে বাধা, ৯৯৯-এ কল

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে আশরাফ আলী (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন বাড়ির অন্য লোকজন। পরে জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করে।

 

সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরলামচী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  

আশরাফ আলী ওই ইউনিয়নের মনসুর আলী রাজ বাড়ির বাসিন্দা।

মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন একই বাড়ির শাহআলমের ছেলে শরীফ। সম্পর্কে তারা দাদা-নাতি।  

বাড়ির লোকজন জানায়, প্রায় সাত বছর আগে শরীফকে প্রবাসে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আশরাফ আলীর সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়। ওই টাকা ফেরত চায় শরীফ। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে।  

তারা আরও জানায়, বৃদ্ধ আশরাফ আলী ফেনীতে থাকতেন। সোমবার সকালে মারা যান তিনি। পরিবারের লোকজন মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। দুপুর ১টার দিকে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কবর খোঁড়া হয়। কিন্তু পাওনা টাকা আদায়ের জন্য শরীফ ও তার পরিবারের লোকজন মরদেহ দাফনে বাধা দিয়ে রাখে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মরদেহ দাফন করা হয়।  

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশরাফ আলীর ছেলে খোরশেদ আলম তাদের বাড়ির বাসিন্দা শরীফকে প্রবাসে নেওয়ার কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। শরীফ সৌদি গিয়ে ভিসা জটিলতায় ১৫ দিনের মাথায় দেশে ফেরত আসেন।  

দেশে এসে শরীফ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। এদিকে টাকা ফেরত দিতে না পারায় খোরশেদের বাবা আশরাফ আলী ও তার স্ত্রী খুরশিদা বেগম পালিয়ে যান। তারা ফেনীতে বাসাভাড়া করে থাকতেন।  

এদিকে শরীফ বাদী হয়ে খোরশেদসহ তার পরিবারের লোকজনের নামে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। অন্যদিকে টাকা লেনদেনের সময় খোরশেদের মায়ের কাছ থেকে নেওয়া একটি ব্যাংক চেক নিয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেন শরীফ। ওই মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডের রায় হয় খোরশেদা বেগমের বিরুদ্ধে।  

আশরাফ আলীর ছেলে খোরশেদ আলম বলেন, আমি সৌদি ছিলাম। সেখানে শরীফকে নিয়ে যাই। কিন্তু শরীফ কাজ করতে না পারায় বাড়ি চলে এসে ভিসার টাকা দাবি করে। এরই মধ্যে শরীফ ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের বসতঘর দখল করে নেয়। আমি দেশে এলেও বাড়িতে থাকতে পারিনি। শ্বশুরবাড়িতে থাকতে হয়েছে। আর আমার বৃদ্ধ বাবা-মা ফেনীতে বাসাভাড়া করে থাকতেন। সোমবার সকালে আমার বৃদ্ধ বাবা মারা গেলে মরদেহ দাফনের জন্য বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু আমাদের জমিতে আমার বাবাকে দাফন করতে বাধা দেন শরীফ ও তার লোকজন। কবর খোঁড়া হলেও দাফন করতে না পেরে জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে আড়াই ঘণ্টা পর বাবাকে দাফন করতে পেরেছি।  

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল বাসার বলেন, আশরাফ আলীর পরিবারের সঙ্গে শরীফের টাকা লেনদেনের একটি ঝামেলা ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তবে মীমাংসা হয়নি। আজকে আশরাফ আলীর মরদেহ দাফনে শরীফ বাধা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে আমরা আশরাফ আলীর বাড়িতে আসি। তার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করি। উভয়পক্ষকে বসে বিষয়টি সমাধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪৯ ঘণ্টা, মার্চ ০৫, ২০২৪
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
welcome-ad