ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

লিঙ্গ জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল, আদালতে তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি

অতিথি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
লিঙ্গ জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল, আদালতে তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি

ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সাভার উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি চৌধুরী।

কিন্তু পদটি নারীদের জন্য নির্ধারিত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আদালতে আপিল করেছেন মিষ্টি চৌধুরী।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভার উপজেলায় তিন পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মোট ১২ জন। তাদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি ব্যতীত সবার মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে।  

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে। যাদের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে তারা হলেন, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসমিন আক্তার সুমী, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নাদিয়া নূর তনু, ঢাকা জেলা উত্তর যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি মনিকা হাসান ও ডা. ফরিদা হক। সাভার উপজেলা আ.লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিষ্টি তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, জেন্ডারগত কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমি আদলতে আপিল করেছি। এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন হওয়ায় আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি সাভার উপজেলা পরিষদ থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফরম সংগ্রহ করেছিলাম। যাচাই-বাছাইয়ে তা বাতিল হওয়ায় আমি আপিল করেছি। আপিলে যদি আদালত এই মনোনয়ন বৈধতা না দেয় তাহলে আমি উচ্চ আদালতে যাবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অন্য সকল পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ আছে।  কিন্তু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকবে না। আমরা নারীর বেশেই থাকি, নামও নারীর।  আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, আমাদের সুযোগ দেওয়া সরকারের উচিৎ।

মনোনয়ন বৈধ হলে জয়ের ব্যাপারে কি রকম আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোন পিছুটান নেই। আমার পরবর্তী প্রজন্ম নেই সে কারণে আমি মানুষের জন্য কাজ করবো। নিজের জন্য কিছুই করবো না। এ কারণে মানুষ আমাকে ভোট দেবে। মনোনয়ন বৈধ হলে আমি জয়ে শতভাগ আশাবাদী।  

সাভার উপজেলা নির্বাচন অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার ২১ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। পরে যাচাই-বাছাইয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মিষ্টি চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কারণ তিনি যে পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন সেটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত। বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল সোমবার থেকে মনোনয়ন ফরম অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া শুরু হয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও অনলাইনে দাখিলের শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২৩ এপ্রিল, বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭-২৯ এপ্রিল, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২ মে এবং ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে সকাল ৮ টা থেকে।

প্রসঙ্গত, সাভার উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৯ লক্ষ ৯১৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৬২ হাজার ২১২ জন, নারী ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ  ৩৮ হাজার ৬৬৮ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১৫ জন। এই ১৫ জনের এক জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা,এপ্রিল ২৫,২০২৪
এমএম 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।