ঢাকা, সোমবার, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৮ মহররম ১৪৪৬

জাতীয়

সিলেটে ভারী বর্ষণ-জলাবদ্ধতা, ঈদ জামাতে অংশ নিতে পারেননি অনেকেই

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৪০ ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০২৪
সিলেটে ভারী বর্ষণ-জলাবদ্ধতা, ঈদ জামাতে অংশ নিতে পারেননি অনেকেই

সিলেট: ঈদের দিন ভোর থেকেই সিলেটে ভারী বৃষ্টি ঝরছে। এ পরিস্থিতিতে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ড্রেনের ময়লা পানি রাস্তায় জমে যাওয়ায় জনগণের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সকালে ঈদুল আযহার জামাতে অংশ নিতে পারেননি বহু বাসিন্দা।

সোমবার (১৭ জুন) সিলেটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে কোরবানি দিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

প্রতি বছর লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরের শাহী ঈদগাহে। এবার ভারী বর্ষণের কারণে শাহী ঈদগাহে ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় মুষ্টিমেয় মুসল্লির অংশগ্রহণে। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ নিজের পাড়ার মসজিদে এ জামাতে অংশ নেন। সকাল ৮টায় নগরের শাহী ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নগরবাসীর অনেকে জানান, প্রতি বছর শাহী ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করেন। এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জামাতে মুসল্লি কম ছিল।

ঈদগাহে প্রধান জামাতে ইমামতি ও দোয়া পরিচালনা করেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি আবু হোরায়রা নোমান। জামাতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রেণি পেশার লোকজন।

সোমবার ভোর থেকে সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। একাধারে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নগরের রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে ঈদ জামায়াতের স্থানও পরিবর্তন করা হয়। তারপরও অনেকে ঈদ জামায়াতে অংশ নিতে পারেননি।  

জানা গেছে, ভোর ৪টা থেকে সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে মহানগরের অনেক এলাকা। রাস্তাঘাট ডুবে পানি ঢুকেছে অনেকেরই বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের অন্তত ৭০ ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ডুবেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মসজিদ-মাদরাসা। আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, সিলেটে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট (আইএমডি) থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মেঘালয়ার চেরাপুঞ্জিতে। এর আগে গত ১৫ জুন সকাল ৯টা থেকে ১৬ জুন সকাল ৯টা পর্যন্ত চেরাপুঞ্জিতে ৪৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আর ভারতে অতি বৃষ্টির কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারাসহ সড়ক নদ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সিলেট নগর সংলগ্ন সুরমা নদী উৎরে নগরের ছড়া খাল দিয়ে ঢুকে অনেক এলাকা প্লাবিত করেছে। নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে, ভোর থেকে ভারী বর্ষণে মেজরটিলা ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকা, নগরের উপশহর বিভিন্ন এলাকা, তেররতন, যতরপুর, শাপলাবাগ, মাছিমপুর, ছড়ারপাড়. কালীঘাট, সুবহানীঘাট, শিবগঞ্জ, সোনারপাড়া, মিরাবাজার, আগপাড়া, ঝেরঝেরীপাড়া, লামাবাজার, মীরের ময়দান, বাগবাড়ি, মদীনা মার্কেট, কুয়ারপাড় লালা দিঘীর পাড়, কানিশাইল, শাহী ঈদগাহ, খাসদবির, চৌখিদেখি, এয়ারপোর্ট সড়ক ও বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪০ ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০২৪
এনইউ/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।