নাটোর: নাটোরের চলনবিলে চলছে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উৎসব। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলনবিল এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিনই বিলের কোনো না কোনো অংশে পলই নিয়ে মেতে উঠছে মাছ ধরার উৎসবে।
অতীতে চলনবিলে প্রচুর পরিমাণে কই, শিং, মাগুর, শোল, বাইম, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, রুই, কাতলাসহ দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন দেশি প্রজাতির এসব মাছের বিচরণ খুবই কম। তারপরও অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এখনও চোখে পড়ে মাছ ধরা উৎসবের নজরকাড়া দৃশ্য।
চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে এক সঙ্গে শত শত মানুষ পলই নিয়ে নেমে পড়ে। দলবদ্ধ হয়ে মাছ ধরার এ দৃশ্য যেন অতীত ঐতিহ্য আর উৎসবের কথা মনে করে দেয়।
বিলহরিবাড়ির আজাদ মোল্লা বাংলানিউজকে বলেন, বাপ-দাদারা প্রচুর পরিমাণে দেশি প্রজাতির সুস্বাদু কই, শিং, মাগুর শোল, বাইন, বোয়াল, পাবদা, বাঁচা, চিংড়ি, বাঁশপাতা, টেংরা মাছ পেত শুনেছি। এখন দেশি মাছ বেশি পাওয়া যায় না। বন্যায় পুকুর থেকে ভেসে আসা কার্প জাতের হাঙ্গরি, ব্রিগেড, সিলভারকার্প মাছ বেশি পাওয়া যায়।
চলনবিলের সাতৈল বিলে পলুই নিয়ে মাছ ধরতে আসা যুবক আনার বলেন, সবাই মিলে এক সঙ্গে মাছ ধরতে আসার আনন্দই আলাদা।
পদ্মবিলের আবুল কালাম আজাদ জানান, অতীতের মতো চলনবিলে দেশি প্রজাতির মাছ তেমন পাওয়া যায় না। সরকার উদ্যোগ নিয়ে বিলে দেশি জাতের মাছ ছাড়লে চলনবিল আবারো অতীতের ঐতিহ্য অনেকাংশে ফিরে পেতো।
চলনবিলে অপরিকল্পিত রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ ও ধানসহ অন্যান্য ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিল তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাংলানিউজকে বলেন, চলনবিলে মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলা ও দেশি জাতের মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চলনবিল মৎস্য সম্পদে পরিপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৪৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০১৫
এমজেড