ভোগান্তির মধ্যে জলাবদ্ধ সড়কে জাল ফেলে মাছ শিকার করতেও নেমে পড়েছেন কেউ কেউ। শনিবার (২১ অক্টোবর) বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বাংলাবাজার থেকে বটতলা রোড, বটতলা থেকে চৌমাথা পর্যন্ত নবগ্রাম রোড, বগুড়া রোড, কালীবাড়ী রোড এবং এসব সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা অলি-গলিতেও পানি জমে গেছে। সেই পানি কোথাও কোথাও হাটু সমান উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যাহত হলেও কেউ কেউ সড়কে জমে থাকা পানিতে জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন। এসব এলাকার শিশুরাও মেতে ওঠেছে আনন্দে।
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার বাসিন্দা ওমর আলী বাংলানিউজকে জানান, মূলত অল্প কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণেই নবগ্রাম রোডের বটতালা বাজার থেকে হাতেম আলী কলেজ পর্যন্ত এই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়।
‘সকাল থেকে সড়কে হাঁটু পর্যন্ত পানি রয়েছে। বাড়তি এ পানির কারণে ড্রেন ধরে আশপাশের পুকুরের মাছ ভেসে সড়কে চলে আসে। তাই এলাকার মানুষ জাল কিংবা মশারির কাপড় দিয়ে সড়কেই মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন। ’
স্থানীয় যুবক মেহেদী জানান, গতবছরও এমন বৃষ্টিতে হাঁটু সমান পানিতে এই সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরেছিলেন এলাকার মানুষ। এবারও মাছ শিকার করেছেন তারা।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। শহরের পলিটেকনিক রোডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কামাল জানান, বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে ফুটপাত হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে।
তিনি বলেন, এই পানির মধ্যেই ছেলেকে স্কুলে যেতে হয়েছে। ড্রেনের আর বৃষ্টির পানি এক হয়ে যাওয়ায় অসুখ-বিসুখের শঙ্কাও রয়েছে।
শহরের রিকশাচালক সিরাজ জানান, সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভাঙা সড়কের খানাখন্দে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এরপরও রোজগারের জন্য নামতে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বরিশাল কার্যালয়ের সিনিয়র পর্যবেক্ষক প্রনব কুমার রায় বাংলানিউজকে জানান, ১৮ অক্টোবর থেকে বরিশালে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। যা ১৯ অক্টোবর রাত থেকে অনেকটা বিরামহীনভাবে চলছে। পুরো ৪ দিনে বরিশালে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৪১ দশমিক ৩ মিলিমিটার।
তবে রোববার (২২ অক্টোবর) দিনের মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১২ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০১৭
এমএস/এমএ