ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

‘বরিশালের উন্নয়ন যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯২০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৭, ২০২২
‘বরিশালের উন্নয়ন যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি’

বরিশাল: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, গোপালগঞ্জের মানুষ। তিনি যখন সরকার প্রধান হন তখনই দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হয়।

আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে আমরা পদ্মাসেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবো। আমাদের লঞ্চ-স্টিমারে উঠতে হবে না। বাস চেপেই আমরা স্বল্প সময়ে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াত করতে পারবো।

শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) বরিশাল নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে পায়রা বন্দর হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। এখানে বিদেশি জাহাজ আসবে, একইসঙ্গে বিদেশিরাও আসবে। বরিশাল বিভাগীয় শহর হওয়ায় এখানে অনেক বিদেশিরা এসে অফিস করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে নির্বাচন করি, তখন আমার স্বপ্ন বরিশালটাকে উন্নয়ন করার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যেভাবে ভেবেছিলাম সেভাবে করতে পারিনি।

বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা আমার আওতায় আসে। একইসঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনে একজন মেয়র রয়েছেন। সিটি করপোরেশন দেখভাল করার দায়িত্ব মেয়র সাহেবের, আমার তাকে পেছনে বসে সাহায্য করার কথা। যা হোক বিগত তিন বছরে বরিশালে সে রকম উন্নয়ন হয়নি, হয়তো মেয়র সাহেব চেষ্টা করছেন উন্নয়ন করার জন্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা এমপি ছিলেন, বিশেষ করে বিএনপির আমলে পাঁচ-পাঁচবার এমপি ছিলেন মজিবর রহমান সরওয়ার- তিনি কোনো কাজই করেননি। এছাড়া আমাদের আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ, তার সময় তিনি কতটুকু করতে পেরেছেন আমি জানি না।

তিনি বলেন, বরিশাল শহরে জলাবদ্ধতার যে সমস্যা ছিল সেটা দূরীকরণ হয়নি। আমি এবার এমপি হওয়ার পরে আমার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বরিশালের সাতটি খাল নিয়ে একটি প্রকল্প করেছি। আমানতগঞ্জ খাল, জেল খাল, চাঁদমারী খাল ও শাখা খাল, পলাশপুরের খাল, ভাটার খাল, সাগরদী খাল, রূপাতলী খাল এ সাতটি খাল খনন করলে বরিশালে জলাবদ্ধতা কমে আসবে। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন মিলে এ কাজগুলো করবে, যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়। কারণ এটা দেখার দায়িত্ব আমার না, আমার দায়িত্ব হলো খাল খননের জন্য প্রজেক্ট এনে দেওয়া এবং বাস্তবায়ন করা। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে মেয়র সাহেবের সহযোগিতায় সাতটি খাল সঠিকভাবে খনন হবে। এটা হলে হাঁটু-কোমড় পর্যন্ত পানি জমার দৃশ্য আর হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হওয়ার পর ১০ জন কাউন্সিলর কিছুই পাননি। তারা আমাকে বলেছে নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণ ও ভোটারদের জন্য কিছু করতে পারলাম না। যখন তারা আমাকে সাহায্যের কথা বলেছে, তখন আমি বললাম এটাও আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। মেয়র সাহেব যতটুকু পারবেন ততটুকু করবেন। আর আমার বাড়তি দায়িত্বের মধ্যে করোনার সময় ওয়ার্ডগুলোতেও ত্রাণ বিতরণ করেছিলাম। এখন শীতকাল এসেছে, বাহারকে আমি বলেছি তোমার ওয়ার্ডে যারা গরিব রয়েছেন, কম্বল নেই তাদের মধ্যে শীতবস্ত্র দেওয়ার আয়োজন করো। আমি নিজে এসে দিয়ে যাব। আপনাদের ওয়ার্ডে ১৪ হাজার লোকের সবাইকে কম্বল দেওয়া সম্ভব না, আমার আরও ওয়ার্ড রয়েছে, ইউনিয়ন রয়েছে। আজ এখানে ৬০০ কম্বল দিয়ে চেষ্টা করলাম কষ্ট কিছুটা লাঘব করার।

তিনি বলেন, যাদের কম্বল দরকার নেই তাদের প্রতি অনুরোধ নিতে আসবেন না, যাদের প্রয়োজন তাদের নিতে সাহায্য করুন। আমি আশা করবো আমরা সবাই মিলে-মিশে একজন আরেকজনের কষ্ট লাঘবের কথা চিন্তা করে এগিয়ে আসবো।

এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৭, ২০২২
এমএস/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa