ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে গণটিকা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৩৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে গণটিকা

সিলেট: সিলেট বিভাগে গণটিকা প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। সরকার কর্তৃক সাড়ে ৪ লাখ লোকজনকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রায় পৌনে ৭ লাখ লোকজনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে একদিনে।

  

তবে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৭ লাখ লোকজনকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। দিন শেষে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ জনকে টিকা প্রদান করা হয়।

এ নিয়ে শুরু থেকে চলমান টিকা কার্যক্রমে বিভাগে ৭৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ জনকে লোকজনকে প্রথম ডোজ এবং ৪৬ লাখ লোকজনকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কেবল শনিবারেই মহানগরীসহ সিলেট জেলায় করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৩ জনকে। আর হবিগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৭ জন, মৌলভীবাজার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৮ জন এবং সুনামগঞ্জ ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৩ জনকে ফাইজার, সিনোফার্মা এবং জনসন এন্ড জনসনের টিকা প্রদান করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার গণটিকা কার্যক্রমে মহানগর এলাকায় ৯৬টি কেন্দ্রে ৬৫ হাজার ৩৪৭ জন নারী পুরুষকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে জনসন এন্ড জনসনের টিকা পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৫৫০ জন, ফাইজার ভ্যাকসিন পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৪৫ জন এবং সিনোভ্যাক পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৫২ জন।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরের ৯৬ কেন্দ্রসহ বিভাগের ৫৮০টি কেন্দ্রে দিনভর গণটিকা কার্যক্রম চলে। দিনের শুরু থেকে টিকাদান যেনো উৎসবে পরিণত হয়। টিকা নিতে সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। করোনা থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা প্রদানের কথা বলা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ছিটেফুঁটোও ছিলনা কেন্দ্রগুলোতে। এমনকি শিশুদের কোলে নিয়েও নারীদের টিকাকেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সরকার কর্তৃক সাড়ে ৪ লাখ লোকজনকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সিলেট বিভাগের জন্য ৭ লাখ লোকজনকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করেন স্বাস্থ্য বিভাগ। আর নানা কারণে যারা টিকাদানের উৎসবে সামিল হতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে সরকার বিবেচনা করতে পারে। সে লক্ষ্যে সিলেটে আরো দুই দিন গণটিকা কার্যক্রম বাড়ানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভাগে সাড়ে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে গত শুক্রবারেই এক লাখ ৭ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ ভ্রাম্যমান মানুষ। তন্মধ্যে বেদে সম্প্রাদায়, রেল স্টেশনের কুলি, বাস টার্মিনালে পরিবহণ শ্রমিক, পতিতা, হিজড়া জনগোষ্টী, মাজারের ফকিরসহ ফুটপাতের ছিন্নমূল মানুষও রয়েছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) স্বাস্থ্য শাখা থেকে জানানো হয়, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি, সেসব নাগরিকগণ জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্ম নিবন্ধনপত্র নিয়ে কেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণের সুবিধা পেয়েছেন। যাদের এর কোনটিই নেই তারাও টিকা কেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণ করতে পেরেছেন। আর যারা ইতোমধ্যে সুরক্ষা অ্যাপসে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন কিন্তু কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেননি, তারাও আজ টিকা গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে তারা নগরভবনে স্থাপিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সুরক্ষা অ্যাপসে হালনাগাগ করার সুবিধা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘জনসন এন্ড জনসন’ কোভিড টিকা এক ডোজই যথাযথ সুরক্ষা প্রদান করে। এই টিকা গ্রহণকারীদের দ্বিতীয় বার টিকা গ্রহণ করতে হবে না। এই ভ্যাকসিন সিঙ্গেল ডোজ হিসেবেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ০২৩৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়রি ২৭, ২০২২
এনইউ/এনএটি 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।