ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

মুক্তমত

বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং দেশের উল্টো পথে যাত্রা

মো. জাকির হোসেন | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০২ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০২৩
বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং দেশের উল্টো পথে যাত্রা

ঢাকা: গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিশ্বের নানা প্রান্তে আগস্ট মাস যেভাবে আসে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আসে তা থেকে ভিন্নতা নিয়ে। শোকের মাতম নিয়ে আসে আগস্ট।

এই মাসের ১৫ তারিখে কিছু বিশ্বাসঘাতক ইতিহাসের মহান কিংবদন্তি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেলজয়ী পশ্চিম জার্মানির নেতা উইলি ব্রানডিট যথার্থই বলেছিলেন, ‘মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না।

যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে। ’ বাঙালির প্রতি অতল ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধু নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, সুখ-আরাম-আয়েশকে বিসর্জন দিয়েছেন। পরিবারের প্রতি দায়িত্বকে গৌণ করেছেন। বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য বছরের পর বছর জেল খেটেছেন।

ফাঁসির রজ্জু গলায় পরতে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করেছেন। কোনো বাঙালি তাঁকে হত্যা করে আত্মঘাতী হবে, তা বঙ্গবন্ধু কল্পনায়ও ঠাঁই দেননি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতাকে খুনিচক্র ও তাদের দোসররা মেনে নিতে পারেনি। খুনি ও তাদের সহযোগীরা স্বাধীনতার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য বঙ্গবন্ধুর গৃহীত অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় একটি দল। তারাও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কারিশমায় ঈর্ষান্বিত দেশি-বিদেশি দোসররাও জোটবদ্ধ হয়েছিল। আর এসবেরই পরিণতি বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ১৫ আগস্টের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।
বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং দেশের উল্টো পথে যাত্রাস্মরণাতীত কাল থেকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বিশ্বে অনেকবার হয়েছে।

বিশ্বের বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ইতিহাসে এমন আরেকটি উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায় না, যেখানে একটি জাতির স্থপতিকে হত্যার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী, তিন পুত্র, দুই পুত্রবধূ, ভ্রাতাসহ বাসায় উপস্থিত পরিবারের সব সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে একটি জাতির পিতার শিশুপুত্রকেও হত্যা করা হয়েছে—এমন একটি ঘটনাও ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। পিতার দুই কন্যা সেদিন বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে গিয়েছেন। ওই দিন বাসায় থাকলে কি তাঁরাও হত্যার শিকার হতেন না মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করায় খুনি ও তাদের দোসররা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজছিল। ১৫ আগস্টের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের সেই প্রতিশোধের প্রতিফলন ঘটে। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল একটি শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির এই দর্শনকে মুছে ফেলতে চেয়েছে খুনি ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা। তাই খুনি ও তাদের দোসররা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সম্ভাব্য ধারক-বাহক তাঁর রক্তের উত্তরসূরি সবাইকেসহ শিশু রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করেছে।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটিতে আঘাত করলে অপরটিতে তার মারাত্মক অভিঘাত সৃষ্টি হবে, এটিই স্বাভাবিক। জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যার পর দ্য টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় একটি তাত্পর্যপূর্ণ মন্তব্যসহ উল্লেখ করা হয়, ‘শেখ মুজিবকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই। ’ আজ থেকে ৪৮ বছর আগে কী দারুণ সত্য অনুধাবন ও উচ্চারণ করেছিল দ্য টাইমস অব লন্ডন! খুনিরা বাংলাদেশকে নেতৃত্বহীন করতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ধারাবাহিকতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকেও জেলের অভ্যন্তরে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে। পিতার খুনিদের বিচার করা যাবে না মর্মে দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করে বিচারহীনতার বর্বর সংস্কৃতি চালু করেছে। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্বদানকারী রাজনীতির উত্কৃষ্ট অংশটিকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে অমানিশার শুরু। এরই বেদনাদায়ক চিত্র আজকের রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সতত দৃশ্যমান। আগুনে পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করার রাজনীতির প্রচলন হয়েছে। অসাম্প্রদায়িকতার মন্ত্র নিয়ে সৃষ্ট বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বীভৎসরূপে ফিরে এসেছে। ভোটের আগে ও পরে নজিরবিহীন সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে নির্মূল করা রাজনৈতিক দলের নীতি ও আদর্শ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা আইএসআই ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও একই ধারাবাহিকতায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা না হলে বিএনপি নামের সংগঠনের জন্ম হতো না। বিএনপির জন্ম না হলে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত রাজনীতিতে পুনর্বাসিত ও রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারত না। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ফ্রিডম পার্টি গঠন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদকে কলঙ্কিত করতে পারত না। পশ্চিমা কয়েকটি রাষ্ট্র যেভাবে বাংলাদেশকে তাদের অঙ্গরাষ্ট্র পরিগণিত করে সার্বভৌমত্বে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে, তা করতে পারত না। সর্বোপরি রাজনীতির এমন দুর্বৃত্তায়ন আর সর্বনাশ ঘটত না। বয়সীদের কাছে শুনেছি, হক সাহেব (শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক), সোহরাওয়ার্দী সাহেব, ভাসানী সাহেব, শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু), সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব, তাজউদ্দীন সাহেব, মনসুর আলী সাহেব, কামারুজ্জামান সাহেব যখন রাজনীতি করতেন, সেটি ছিল খাঁটি রাজনীতি। দেশ ও জনগণের কল্যাণ ছাড়া অন্য কোনো ভাবনা তাঁদের মধ্যে ছিল না। যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন তাঁরা। ব্যক্তি-পরিবারের লাভ-লোকসান তাঁদের বিবেচ্য ছিল না। রাজনীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গাড়ি-বাড়ি ও আলিশান জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখেননি তাঁরা। মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের সন্তোষে একটি কুঁড়েঘরে বাস করতেন। ধারকর্জ, বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতা ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই ছিল না। পাকিস্তানি শাসকের ভয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে অনেকেই বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হতো না বিধায় বঙ্গমাতা পিডাব্লিউডি থেকে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধু হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ঋণ শোধ করে যেতে পারেননি। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর ঋণের অবশিষ্টাংশ শোধ করেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর ওকালতির টাকা দিয়ে দলে অর্থায়ন করতেন। আওয়ামী লীগের অনেক রাজনীতিবিদ সততার পরাকাষ্ঠা হয়ে একচালা টিনের ঘরে আমৃত্যু বসবাস করেছেন। গাড়ি নয়, রিকশায় চড়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। কারণ সংসদ ভবনে রিকশা প্রবেশ নিষিদ্ধ। এখন সব কিছুই কল্পকাহিনি মনে হবে। এ কথা অস্বীকার করার জো নেই, আমাদের রাজনীতি আকৃতি-প্রকৃতি আর রূপ-রস-রুচির বিবেচনায় এর আসল অবয়ব হারিয়ে বীভৎস আকার ধারণ করেছে। রাতের অন্ধকার আর প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনীতির আদর্শ-উদ্দেশ্যের ক্রমাগত বস্ত্রহরণে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে পড়ছে। অনেকের মতে, রাজনীতির নামে যা চলছে, তাকে রাজনীতি বললে বোধ করি রাজনীতি শব্দটিরও অসম্মান হয়।

একসময় রাজনীতিতে যোগদান অত্যন্ত সম্মানজনক বিষয় ছিল, রাজনীতিবিদরা পূজনীয় ছিলেন। তখন রাজনীতির মূলমন্ত্র ছিল অতল দেশপ্রেম আর জনকল্যাণ। রাজনীতির দীক্ষা ছিল ত্যাগ আর ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার বলিদান। এখন রাজনীতি নিয়ে মানুষ যারপরনাই বিরক্ত। ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ মানুষ রাজনীতি ও রাজনীতিকদের কষে গালি দিতে দ্বিধা বোধ করে না।

অতল দেশপ্রেম আর ত্যাগ-তিতিক্ষার পূজনীয় রাজনীতি কেন, কেমন করে নষ্ট আর অশ্লীল হলো ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্তম অংশটিকে নির্মূল করে অপরাজনীতির সব ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলধারা থেকে সাইডলাইনে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। জিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর ভয়ংকর বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুবিধাবাদী নেতাদের নিয়ে দল গঠন করেন। রাজনীতিবিদদের ক্রয়-বিক্রয় আর আদর্শের বস্ত্রহরণের রাজনীতির নতুন যুগের সূচনা হয়। রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়ে। রাজনীতিবিদদের লোভ-লালসার হাত ধরে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের প্রচলন হয়। রাজনীতিতে টাকা এবং টাকাওয়ালাদের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাজনীতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ এবং ‘আই উইল মেক পলিটিকস ডিফিকাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ান্স’। সেই থেকে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি সত্যি কঠিন হয়ে পড়ল। ত্যাগী রাজনীতিকের সংখ্যা ক্রমাগতই কমতে থাকল। ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ যদি রাজনীতির নিয়ামক হয়, তখন একটি দেশের দুর্নীতির অভয়াশ্রম হয়ে উঠতে আর কোনো কিছুর দরকার পড়ে না।

জিয়ার হাত ধরে দুর্নীতিবাজ নব্য ধনীদের বড় অংশের উত্থান হয় এবং রাজনীতিতে তাদের পুনর্বাসন হয়। ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা—বলতে গেলে সব পেশাজীবীই রাজনীতিতে ঢুকে পড়তে শুরু করেন। অন্য পেশা থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই এসেছেন মূলত ‘রাজনীতিতে অর্থ উপার্জন কোনো সমস্যাই নয়’ এই সত্যকে মন্ত্রজ্ঞান করে। তাঁদের প্রায় সবারই ‘সিদ্ধিলাভ’ হয়েছে। ‘বাইরের লোক’ রাজনীতিতে এসে শুধু রাজনীতিকেই কলুষিত করেননি, যে পেশা থেকে এসেছেন, সেই পেশাও তাঁদের মাধ্যমে কলুষিত, দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী সরকারি দলে যোগ দিয়ে টাকার পাহাড় গড়ে ব্যবসায়ী সমাজে ‘অনুকরণীয়’ দৃষ্টান্ত হয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে অনুসরণ করে অন্য ব্যবসায়ীরাও টাকার পাহাড় গড়ার সহজ ফর্মুলা রপ্ত করছেন। সাবেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষকদের হাত ধরেও রাজনীতির অঙ্গনসহ পুরো দেশটি এভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির প্রচলন হয়েছে। এসব লুটেরা, দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদের অনেকেই টাকা দিয়ে পদ-পদবি কিনে নিচ্ছেন। রাজনীতিতে হাইব্রিডদের এখন রমরমা বাজার।

রাজনীতির এমন দুর্বৃত্তায়ন চলতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতিকে সমুন্নত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি, দর্শন ও চেতনাকে লালন করতে হবে। এই দর্শন ও চেতনা হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নে এবং পশ্চিমাদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক আগ্রাসনে দেশ বিপদাপন্ন। রাজনীতিকে রাহুমুক্ত ও আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হলে সব অভিমান, ক্ষোভ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে একাত্তরের মতো ইস্পাত কঠিন ঐক্য ও সংহতি। তা না হলে রাষ্ট্র ও রাজনীতি গভীর থেকে গভীরতর অমানিশায় ডুবতে থাকবে। অতল সেই অন্ধকার থেকে বাংলা ও বাঙালি জাতিকে মুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

 লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় 

বাংলাদেশ সময়: ১১০২ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০২৩
এসআইএস
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।