ঢাকা, সোমবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ শাবান ১৪৪৫

মুক্তমত

সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবেন শেখ হাসিনা

ড. সেলিম মাহমুদ, অতিথি লেখক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৪৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৮, ২০২৩
সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবেন শেখ হাসিনা

আজ ২৮ অক্টোবর ঘিরে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও  অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে বিদেশি ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে।

তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির নামে দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চাচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তাদের বর্তমান দাবির কোনো যৌক্তিকতা ও প্রাসঙ্গিকতা নেই। কারণ ইতোমধ্যে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তার প্রত্যেকটিই করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার ও তার নেতৃত্বাধীন সংসদ বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও টেকসই করার জন্য ৮২টি সংস্কার করেছেন। যে সকল কারণে আওয়ামী লীগসহ অনেকেই এক সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি করেছিল, সেই সকল কারণ, এর বাস্তবতা ও প্রাসঙ্গিকতা এখন নেই। শেখ হাসিনার সরকারের ৮২টি সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এই সকল সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই আজ বিএনপি ও তার মিত্রদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বেআইনি, অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে এটিকে বাতিল করে দিয়েছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদ এটি বাস্তবায়ন করেছে। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট যে বিষয়টিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেয়, সেটিকে সরকার ও সংসদসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ পুনঃস্থাপন করতে পারে না। তাই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বা এই জাতীয় কোনো সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের কোনো সুযোগ বাংলাদেশে নেই। এই 'পাসড অ্যান্ড ক্লোজড চ্যাপ্টার' যারা খুলতে চায়, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। যে দাবির কোনো যৌক্তিকতা, গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নেই এবং যে দাবি অসাংবিধানিক ও অবৈধ এবং সাংবিধানিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সে দাবি কোনো মহল গ্রহণ করে না। সে দাবি প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।

একজন ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়কুটো ধরে বাঁচতে চায়, গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা বিএনপি আজকে কেবল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তারা যে কোনো মূল্যে দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নস্যাৎ করে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়। কারণ এই শক্তিশালী ও সুদৃঢ় অর্থনীতি শেখ হাসিনার হাতে গড়া। বাংলাদেশের জনগণ এই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করবে। তারা জানে, এই দেশের সার্বিক উন্নতি কার হাত দিয়ে হয়েছে। তারা জানে, কারা দেশের মঙ্গল চায়।  

গত ১৫ বছরে দেশের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। প্রত্যেকটি ষড়যন্ত্রের সাথে বিএনপি ও তার মিত্ররা জড়িত। জনগণের সমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনা প্রতিটি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রও সফল হয়নি। এবারও হবে না ইনশাল্লাহ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে এবং এদেশের মানুষের ভাগ্য নির্মাতা হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে যেমন শেখ হাসিনার আকাশচুম্বী সমর্থন রয়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তাই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে তারা সফল হতে পারবে না। সংবিধান, গণতন্ত্র ও অর্থনীতি নস্যাৎকারী গোষ্ঠী বিএনপির প্রকৃত মুখোশ ইতোমধ্যে উন্মোচিত হয়েছে। ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার ছাড়া তাদের হাতে আর কিছু নেই। এগুলোও এখন অকেজো ও অকার্যকর হয়ে গেছে। সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাঙালির জয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩২ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৮, ২০২৩
নিউজ ডেস্ক

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।