ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

রাজনীতি

২০ রমজানের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি

নিউজ ডেস্ক  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪২ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৪
২০ রমজানের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি

ঢাকা: ২০ রমজানের মধ্যে সব পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মার্চ মাসের পূর্ণ বেতন ও বেসিকের সমান বোনাস, ওভারটাইমসহ বকেয়া পরিশোধ এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে এ দাবি জানানো হয়।

 

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনের সঞ্চালনায়, কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান অঞ্জন দাস, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রবীর সাহা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক মাহবুব ইরান, কেন্দ্রীয় নেতা শামীম আহমেদ, হযরত বিল্লালসহ আঞ্চলিক নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ ১৮ রোজা। সামনে ঈদুল ফিতর, এবারও ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের দেওয়া তথ্য- ৪১৬ কারখানায় শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। এই খবরে সাধারণ শ্রমিকরা অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় আছেন। ঈদের সময় বেতন বোনাসের প্রশ্ন এলেই মালিকরা কাজ নেই বলেন। অথচ সরকারি সংস্থা ইপিবির তথ্যানুযায়ী চলতি ফেব্রুয়ারিতে এক মাসেই ৪৪৯ কোটি ডলার রপ্তানি হয়েছে, যা ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত।  

তারা বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে এ বছর রপ্তানির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বেড়েছে মালিকরাই বলছেন। অথচ শ্রমিকদের বোনাস-বেতন দেওয়ার কথা এলে মালিকরা নানা বাহানায় সরকারের কাছে ঋণ নেন, তবে বেতন-বোনাস নিশ্চিত করে না।  

নেতারা ২০ রমজানের মধ্যে দ্রুত শ্রমিকদের বেতন এবং বেসিকের সমান মজুরি, ওভারটাইমসহ সব পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানান।  

তারা বলেন, ঈদে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে যাতে ভালো সময় কাটাতে পারেন সে বিষয়ে সরকার ও মালিককে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে হবে। ঈদ বা যেকোনো উৎসব যথাযথভাবে পালন করতে পারা শ্রমিকদের অধিকার। শ্রমিকের কাঁধে ভর করে পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকে আছে। অথচ সেই শ্রমিকের ঈদে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দের সুযোগ থাকে না। সারা বছর কাজ করিয়ে ঈদ এলেই মালিকদের বাহানা শুরু হয়। মালিকরা অর্ডার কম বলে অজুহাত দেন। কিন্তু বাস্তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানায় যে মাত্রাতিরিক্ত ওভারটাইম করানো হচ্ছে, তা থেকেও বোঝা যায় মালিকদের অর্ডারের অভাব নেই।

তারা বলেন, মজুরি-বোনাস না দিয়ে উল্টো গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে ছাঁটাই করা বা কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় বকেয়া বেতন ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শ্রমিকরা স্থানীয় মাস্তান-পুলিশের হামলা ও মালিকের মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। ঈদের সময় অন্যায়ভাবে শ্রমিকদের ছাঁটাই করে ঠকানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
 
বক্তারা বলেন, প্রতিবার ঈদে শ্রমিকরা বিপজ্জনক সড়ক ও বিপজ্জনক পরিবহনে বাড়ি ফেরেন, কখনো দুর্ঘটনার শিকার হন। কেউ ট্রাকে, কেউ ট্রেনের ছাদে, সিএনজিতে এমনি নানা ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে অনেককে আহত-নিহত হতে দেখা যায়। শ্রমিকদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করতে নিরাপদ ও অতিরিক্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে।  

তারা সমাবেশের শেষ পর্যায় বলেন, শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থে বোনাস ও বেতন নিশ্চিত করা জরুরি। ঈদ ১২ এপ্রিল হতে পারে। শ্রমিকরা যাতে ছুটির প্রস্তুতি নিতে পারেন, সেজন্য ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের বেসিকের সমপরিমাণ বোনাস ও ঈদের ছুটির আগে মার্চ মাসের পূর্ণ বেতন ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে, শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল পল্টন মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবে শেষ হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৬ ঘণ্টা, মার্চ ২৯, ২০২৪
আরএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।