ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

মেঘনার তলদেশে টানা হচ্ছে লাইন, অবশেষে বিদ্যুৎ যাচ্ছে চরসোনারামপুরে

মেহেদী নূর, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫২ ঘণ্টা, মার্চ ৪, ২০২২
মেঘনার তলদেশে টানা হচ্ছে লাইন, অবশেষে বিদ্যুৎ যাচ্ছে চরসোনারামপুরে মেঘনার তলদেশে টানা হচ্ছে লাইন, ছবি: বাংলানিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে মেঘনার বুক চিরে জেগে ওঠা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর গ্রাম।  

বিদ্যুতের অন্যতম রাজধানী খ্যাত আশুগঞ্জ সদরের গা ঘেঁষা হলেও নদীর উত্তর প্রান্তে এর অবস্থান হওয়ায় নানা প্রতিকূলতার কারণে এ গ্রামটি বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত।

এতে করে সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা সংস্কৃতি থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন এ গ্রামের জনগণ। তবে বর্তমান সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিশেষ পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে গ্রামটিতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এতে চরবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের ধারা। যেখানে কুপি-হারিকেন আর সোলারের আলোয় তাদের চলতে হয়, সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছার খবরে তারা এখন নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।

ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেঘনার দক্ষিণ প্রান্তে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রান্ত চরসোনাপুর গ্রামটি অনেকটাই অবহেলিত। ওই গ্রামের লোকজন অনেকটা কষ্টেই দিনযাপন করছেন। এখানাকার বেশিভাগ লোকজন জেলে। তারা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তবে বিদ্যুৎ আশার খবরে আশার আলো জেগে ওঠেছে তাদের মধ্যে।  

এ দিকে আশুগঞ্জ বিওসি ঘাটে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নদীর তলদেশ দিয়ে এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সাবমেরিন ক্যাবল পৌঁছে দিতে ড্রিলিং শেষে রিমিনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরোদমে চলছে প্রকল্পের কাজ।

কথা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিলটেক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির প্রকৌশলী মাসুদ রানার সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রাথমিক ড্রিলিং শেষে এখন চলছে রিমিনের কাজ। ২০ ইঞ্চি হুল ছেড়ে ১২ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে লাইন টানা হবে। নদীর তলদেশ থেকে ১০ মিটার নিচ দিয়ে এইচ.ডি.ডি টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে বিওসি ঘাট থেকে চরসোনারামপুর পর্যন্ত ড্রিলিং করে পাইপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাবলের ড্রামসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নদীর অপর প্রান্তে পৌঁছে গেছে। আগামী দুই/তিন সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ হবে।  

চরের লোকজন বলছেন, চরে বিদ্যুৎ সংযোগের কার্যক্রম চলতে থাকায় আশায় বুক বেঁধে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন চরের মানুষ। জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তারা। বাড়ি বাড়ি চলে গেছে খুঁটি

চরসোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা ভোজন চন্দ্র দাস বাংলানিউজকে বলেন, আমি এ চরে ৪০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও আমরা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই শ্রমজীবী। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর অবশেষে বিদ্যুৎ আসবে আমাদের গ্রামে। এতে আমাদের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে।

গ্রামের বৃদ্ধ অমূল্য দাস বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামে প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস। তাদের বেশিরভাগই জেলে। মৎস্য আহরণের ওপর আমরা নির্ভরশীল। সরকার আমাদের গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, এতে আমরা খুশি। আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা দীক্ষায় অগ্রসর হবে।

ওই গ্রামের মালতী রানী বাংলানিউজকে বলেন, আমরা সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ঘরের ফ্যান-লাইট ব্যবহার করি। তবে দিনের আলো না থাকলে এগুলো আর কাজ করে না। বিদ্যুৎ এলে আমাদের কষ্ট লাঘব হবে। আমরা ঘরে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহার করতে পারব।

তরুণ শিপন চন্দ্র দাস বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে আমাদের গ্রামে নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। এতে অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

আশুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, পৌনে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে চরসোনারামপুর।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩২ ঘণ্টা, মার্চ ৪, ২০২২
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এর সর্বশেষ