ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪৩১, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১১ শাওয়াল ১৪৪৫

প্রবাসে বাংলাদেশ

ডান্ডিতে পিঠা উৎসব ও কমিউনিটি পুনর্মিলনী 

মিজান রহমান  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০২৩
ডান্ডিতে পিঠা উৎসব ও কমিউনিটি পুনর্মিলনী 

স্কটল্যান্ড থেকে: পিঠা প্রেমীদের মন ও রূচিবোধকে পরিতৃপ্ত করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমারোহে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ডান্ডিতে পিঠা উৎসব।  

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ডান্ডির উদ্যোগে রোববার দুপুরে স্থানীয় ডাডহোপ মাল্টিকালচারাল সেণ্টারে বাহারি রঙের পিঠা-পুলি আর বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে জমজমাট হয়ে ওঠে মিলনমেলা।

প্রতি বছরের মতো এবারও নানা পিঠা তৈরি করে নিয়ে আসেন স্কটল্যান্ডের প্রবাসী নারীরা।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ডান্ডির সভাপতি জাকির হোসন। অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ আজম খান বিদ্যুৎ। এছাড়া সংগঠনের চেয়ারম্যান বারী গাফ্ফার আয়োজক কমিটির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় কেক কাটার মাধ্যমে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডান্ডিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা অসামান্য অবদান রেখে আসছেন এমন কয়েকজন অতিথি।  

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ উৎসবে ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, খোলা চিতই, দুধ চিতই, ডিম চিতই, ঝাল কুলি, পায়েস, নাড়ু, গড়গড়ি পিঠা, ক্ষীরে ভরা পাটি সাপ্টা, কলার পিঠাসহ তেলে ভাজা নানা রংয়ের পিঠার সঙ্গে দেশীয় সমুচা-সিংগারা স্থান পায়।  

উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে সম্পাদক আজিম মাহমুদ সুমন এবং যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিবরিয়ার পরিচালনায় আয়োজিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন তানিশা। এতে জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন করেন আজিম মাহমুদ সুমন ও জেমস।  

ডান্ডি অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হারুন রিপন এবং মোহাম্মদ আরিফ, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসানসহ কমিটির সব সদস্যদের তত্বাবধানে পরিবেশিত হয় মধ্যহ্নভোজ।  
ডান্ডি এবং পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা সপরিবারে যোগ দেন অনুষ্ঠানে। এর ফলে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়।  

অথিথিরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন কমিউনিটির সকলের মধ্যে পারিবারিক এই পিঠা উৎসবের আয়োজন অনেকদিন পর প্রবাসে বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা উপস্থিত সবাইকে মনে করিয়ে দেয়। এই আয়োজন সবার ভেতর যোগাযোগ তৈরি ও সম্পর্ক উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।  

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে ডান্ডির একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। ৬০ এর দশকে বাংলাদেশ (তদানীন্তন পুর্ব পাকিস্তান) থেকে আমদানি করা পাটের ওপর ভিত্তি করে ডান্ডিতে চালু ছিল টেক্সটাইল শিল্প যা ছিল স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পাটভিত্তিক টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে সেসময় ডান্ডিতে আসতেন বাঙালিরা। আদমজী জুট মিলের কারণে নারায়নগঞ্জ শহরটি আজও লোকমুখে ‘বাংলার ডান্ডি’ নামে পরিচিত।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০২৩ 
এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।