প্রকৃতির সে তৃপ্ত ছোঁয়ার মতোই তৃপ্তি মেলে বাহার ভাইয়ের আবেগ জড়ানো 'রোদেলা বিকেল' রেস্তোরাঁয়।
তত্ত্ব বলে ভারতবর্ষের ৯৬ শতাংশ মানুষই পুরো ভারত ঘুরে উঠতে পারে না।
কথায় বলে বাংলার বাঙালিরা আর বাঙালি নেই। এটা নিয়ে তর্ক হতেই পারে। তবে যারা বলে বাঙালি নেই তাদের খানিকটা বিরোধিতা করি। সে তর্ক না হয় অন্য একদিন হবে।
তবে গর্বের সঙ্গে স্বীকার করি, যা আমার মাতৃভাষা তা পুরোপুরি বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে রেখেছে বাংলাদেশ। তা নিয়ে সত্যিই গর্ব করি আমার মতো রূপান্তর অবাঙালিরাও।
কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁয় বাঙালি খাবারের সঙ্গে অন্য দেশ ও প্রদেশের খাবারের স্বাদ চেখে দেখা হয়েছে। কিন্তু আন্তরিকতা ও ভারতীয় খাবারের ফিউশন, মিলেমিশে আমার জিহ্বায় এক অন্যমাত্রার স্বাদের সঞ্চার হলো রোদেলা বিকেলে এসে। যা বলতে দ্বিধা নেই।
পূর্বপরিকল্পনা মতো ঠিক হয়েছিল চিটাগাং এলে রোদেলা বিকেলে একবার খেতে যাওয়া হবে। বিজয়ের মাসে চিটাগাংয়ে একপাশে মেলা, আবার বড়দিনের ভিন্নতা মিলেমিশে আছে রেস্তোরাঁর মধ্যে। ভেতরে প্রবেশ করতেই তা টের পেলাম।
চূড়ান্ত ব্যস্ততা কালঘাম ছুটলেও মিষ্টি হাসিতে আপ্যায়ন করতে ছুটে এলেন এক কর্মী। ‘আপনারা কতজন'। সাতজন শুনে সেভাবে বসিয়ে দিলেন। অর্ডার দেওয়া হলো। ঠিক হলো সাতজনে সাতরকম পদ নিয়ে ভাগ করে চেখে দেখা হবে।
পাঁচটা ইন্দ্রিয়কে সজাগ রেখে অপেক্ষা! সময় মতো হল পরিবেশন। এবার স্বাদ নেওয়ার পালা! কোনো কিছুর বিষয়ে আগ্রহ তখনই বাড়ে যখন তার সঙ্গে একটা গল্প বা বিষয়টা জানা যায়। সে স্থানই হোক বা রন্ধনপ্রণালী।
সেসব তথ্য শুনতে শুনতে খাবারের স্বাদ যেনো দশগুণ বেড়ে গেলো। বাহার ভাই বলেই চললেন নুডুলসে কি রকমভাবে অস্ট্রেলিয়া থাইল্যান্ডকে এক জায়গায় এনেছে।
আবার মাটন বিরিয়ানিতে হায়দ্রাবাদ ও কলকাতাকে এক প্লেটে আনার আবিষ্কার। আর বাংলায় জন্ম নিয়ে বাঙালি খাবারের তথ্য অন্তত বাঙালি পাঠকদের না দিলেও চলবে।
হ্যাটস অফ বাহার ভাই ও তার রোদেলা বিকেলেকে। ইচ্ছে থাকলো ভবিষ্যতেও স্বাদ নেওয়ার। তিলধারণের জায়গা নেই। মনে হলো 'রোদেলা বিকেল' রেস্তোরাঁতে একটি রাবারব্যান্ডের মতো ইলাস্টিকের প্রয়োজন। যাতে প্রয়োজন হলে জায়গাটা একটু বাড়ানো যায়। খাদ্য রসিকদের জন্য জায়গাটা বড়ই কম হয়ে উঠেছে।
তবে আফসোস একটাই, চিটাগাংবাসী হলে হয়তো মাঝে-মধ্যেই এর স্বাদ নিতে পারতাম!
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭
ভিএস/এএ