অত্যাধুনিক এই সফটওয়্যার গোটা বিশ্বে ট্রেন কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিসিএমএস) নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে কন্ট্রোল রুমে বসে চালক ছাড়াই ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এছাড়া বর্তমানে কলকাতায় মেট্রোর লাইনে আত্মহত্যার জন্য হামেশাই ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা এড়াতে কলকাতার নতুন স্টেশনগুলোয় ইতোমধ্যেই দেয়াল তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে কলকাতা মেট্রোরেল করপোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)।
প্লেন চলাচল যেভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই কায়দাতেই কলকাতায় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে কন্ট্রোল রুম থেকে। তবে সফটওয়্যার দ্বারা ট্রেন চালানোর প্রযুক্তি থাকলেও প্ল্যাটফর্মগুলোয় দরজা খোলা-বন্ধ করাসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ড্রাইভার কেবিনে থাকবেন একজন কর্মী।
মেট্রোরেল করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা মেট্রোয় দুই ধরনের প্ল্যাটফর্মে দুই রকমের দেয়াল তৈরি করা হচ্ছে। যেসব স্টেশনগুলো মাটির উপরে, সেগুলোতে থাকবে ‘প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন গেট’। এই ধরনের গেটের উচ্চতা ছাদ পর্যন্ত থাকবে না। কিন্তু যেসব স্টেশন মাটির নিচে, সেসবে থাকবে ‘প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর’। এই ধরনের দেয়ালের উচ্চতা হবে ছাদ পর্যন্ত। যেহেতু মাটির উপরের স্টেশনগুলোতে এসি থাকবে না, তাই আত্মহত্যা ঠেকাতে দেয়াল অর্ধেক করলেও ক্ষতি হবে না। কিন্তু মাটির নিচের স্টেশনগুলোতে এসি আছে। তাই ঠাণ্ডা হাওয়া যাতে বেরিয়ে না যায় তার জন্য দেয়াল ছাদ পর্যন্ত থাকবে।
আপাতত কলকাতা মেট্রো পরিষেবায় যে প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন করে তৈরি, সেগুলোরই দেয়াল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নতুন কাজ শেষ হলে তবেই শুরু হবে পুরোনো স্টেশনগুলোর উন্নয়ন।
তাছাড়া দেয়ালগুলো তৈরি হচ্ছে স্বচ্ছ শক্ত ফাইবার দিয়ে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এলে তবেই প্ল্যাটফর্ম-দেয়ালের দরজা খুলবে। অন্য সময়ে তা বন্ধ থাকবে। সঙ্গে নতুন-পুরোনো সব স্টেশনেই অর্থাৎ কলকাতার গোটা মেট্রোরেল পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ হবে চালকবিহীন সফটওয়্যারের মাধ্যমে। যার ট্রায়াল রান শুরু হবে ঈদের পর এবং সব ঠিক থাকলে দুর্গাপূজা থেকে সম্পূর্ণভাবে চালু হবে কলকাতায় চালকবিহীন মেট্রোরেল।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৫০ ঘণ্টা, আগস্ট ২০, ২০১৮
ভিএস/টিএ