ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ শাবান ১৪৪৫

ক্রিকেট

এবাদত-তাসকিনের পেস বিষে নীল আয়ারল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫২ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০২৩
এবাদত-তাসকিনের পেস বিষে নীল আয়ারল্যান্ড

শুরুটা করেছিলেন সাকিব আল হাসান। দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু পাওয়া আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

এরপর আসরে নামেন দুই পেসার এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। দুজনে মিলে তুলে নিয়েছেন পরের ৪ উইকেট। তাদের দুর্দান্ত লাইন-লেন্থ তথা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপের মুখে পড়েছে আইরিশরা।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৭.৩ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা।  

তবে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বেশ ভালোই জবাব দিচ্ছিল আয়ারল্যান্ড। বিনা উইকেটে পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় সফরকারীদের সংগ্রহ। কিন্তু আইরিশদের ওপেনিং জুটিকে এরপর বেশিদূর যেতে দেননি না সাকিব ও এবাদত। সাকিব ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পরের ওভারেই আঘাত হানেন এবাদত। জুটিতে ৬০ রান আসার পর সাকিবের বলে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডোহেনি। বিদায়ের আগে ৩৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেছেন এই আইরিশ ব্যাটার। ৪টি চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি। পরের ওভারে আরেক আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিংকে বিদায় করেন এবাদত। এবারও ক্যাচ নেন মুশফিক। ৩১ বল স্থায়ী ইনিংসে ২২ রান করেন স্টার্লিং।  

জোড়া ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। নিজের পরবর্তী ওভার করতে এসে ওভারের দ্বিতীয় বলেই চারে নামা হ্যারি টেক্টরকে (৩) বিদায় করেন এবাদত। এবার ম্যাচে নিজের তৃতীয় ক্যাচটি নেন মুশফিক। পরের ওভারে আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বলবার্নিকে (৫) বোল্ড করেন তাসকিন। আয়ারল্যান্ডের পরের উইকেটটিও তাসকিনের; এবার তার লাফিয়ে ওঠা বলে আইরিশ উইকেটকিপার-ব্যাটার লরকান টাকার (৬) ক্যাচ তুলে নেন। আর তা লুফে নেন স্লিপে থাকা ইয়াসির আলী। ৭৬ রানে ৫ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড।

এর আগে আজ শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আয়ারল্যান্ডের সামনে ৩৩৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে এই লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা। ওয়ানডেতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩৩ রান করেছিল।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মার্ক আডইয়ারের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ৯ বলে ৩ রান করা অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৩৪ রানের জুটি গড়েন আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার লিটন দাস। কিন্তু দুজনের কেউই পারেননি ইনিংস লম্বা করতে।  

২ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ বলে ২৬ রান করে ক্যাম্পারের বলে স্টার্লিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিটন। শান্ত লাইন মিস করে বোল্ড হন ম্যাকব্রিনের বলে, ৩৪ বল খেলে ২৫ রান করেন। ৮১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়।  

সাকিব আল হাসান শুরুর দিকে কিছুটা ভুগেছেন। কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে, তিনি হয়েছেন সাবলীল। ৩৫তম ওভারে হ্যারি টেক্টরকে তো দুঃস্বপ্নই দেখিয়েছেন সাকিব। ছয় বলের পাঁচটিতেই চার মেরে নিয়েছেন ২২ রান। প্রায় ১৩৭০ দিন আগে সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া সাকিবের জন্য ছিল বেশ বড় সুযোগ।  

কিন্তু তিনি আউট হয়েছেন খুবই সাদামাটাভাবে। ৯ চারে ৮৯ বলে ৯৩ রান করে গ্রাহাম হিউমের বলে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ‘নব্বই’তে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অষ্টমবার আটকে গেলেন তিনি। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চবার। তার সঙ্গে তাওহীদের ১২৫ বলে ১৩৫ রানের জুটি দশ ম্যাচ পর বাংলাদেশে প্রথম তিন অঙ্ক ছাড়ানো জুটি।  

এরপর ক্রিজে এসে ‘ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াই’য়ে উতরে যাওয়ার মতো এক ইনিংসই খেলেছেন মুশফিক। সাত নম্বরে নেমে ৩ চার ও সমান ছক্কায় ২৬ বলে ৪৪ রান করেছেন তিনি। এরপরের পুরো আলোটাই অবশ্য ছিল তাওহীদ হৃদয়ের দিকে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা এই ব্যাটার পেতে পারতেন সেঞ্চুরির দেখা।  

তিন অঙ্কের দেখা পেলে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি করার কীর্তি হতো। কিন্তু কেবল ৮ রানের জন্য সেটি করতে পারেননি তিনি। হিউমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তাওহীদ। ৮ চার ও ২ ছক্কার ইনিংসে ৮৫ বলে ৯২ রান করেন তিনি।

শেষদিকে ইয়াসির আলির ১০ বলে ১৭, তাসকিন আহমেদের ৭ বলে ১১ ও নাসুম আহমেদের ৭ বলে ১১ রানে ইনিংসে বাংলাদেশ পায় রেকর্ড গড়া সংগ্রহ। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে চার উইকেট নেন গ্রাহাম হিউম।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫২ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০২৩
এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।