ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩১ মে ২০২৪, ২২ জিলকদ ১৪৪৫

ভারত

শান্তিনিকেতন আমার অতি আপন: দ্রৌপদী মুর্মু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১০০ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৩
শান্তিনিকেতন আমার অতি আপন: দ্রৌপদী মুর্মু

কলকাতা: ‘আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ গঠনের পর বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ ভবন স্থাপন করা হয়েছে। এই শান্তিনিকেতন আমার অতি আপন।

একই সঙ্গে শিক্ষা সম্পর্কে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে ভাবনা-চিন্তা ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির মিল রয়েছে। ’

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) শান্তিনিকেতনে এসে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

বিশ্বভারতীতে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীর সমানুপাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভারতের উন্নয়নে নারীশিক্ষা ও সামগ্রিকভাবে নারীর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে যাওয়ার পর প্রথমেই ‘রবীন্দ্র ভবন’ সংগ্রহশালায় যান তিনি। সেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত চেয়ারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান ভারতের রাষ্ট্রপতি। এই সংগ্রহশালায় কবিগুরুর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, তাঁর হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, আঁকা ছবি ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি।

‘ভিজিটর’স বুক’-এ নিজের মতামতও লেখেন রাষ্ট্রপতি। এরপর যান কলাভবন।  কলাভবনে খোলা আকাশের নিচে নির্মিত ভাস্কর্যগুলি বিস্ময় চোখে দেখেন তিনি। সেখান থেকে ছাতিমতলায় এসে আবার কবিগুরুকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসবের পর যোগ দেন আম্রকুঞ্জের জহর বেদীতে আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য ড. বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসসহ বিশিষ্টরা।

এরপর প্রথা অনুযায়ী, অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই বিভিন্ন ভবনের অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানদের হাতে সপ্তপর্ণী (ছাতিম পাতা) তুলে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি এবং উপচার্য, দুজনকেই এই ভূমিকায় দেখা যায়। বিশ্বভারতীর তরফে রাষ্ট্রপতিকে কবিগুরুর একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন উপাচার্য ড. বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা বিষয়ে যে ভাবনা, ঐতিহ্যকে আঁকড়ে রেখে আধুনিক হওয়ার ভাবনা, উচ্চ ও উন্নতর শিক্ষার ভাবনার কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির অনেক মিল রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিশ্বভারতীতে এসে আমি দেখলাম, এখানে যতজন ছাত্র আছেন, ততজন ছাত্রীও আছেন। ছাত্র ও ছাত্রীর এই সমানুপাতিক অবস্থান দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমাদের দেশের প্রায় অর্ধ শতাংশ নাগরিক নারী। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হলে নারীশিক্ষার প্রসার, তার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। আমি দেশের প্রত্যেক নারীর শিক্ষালাভে জোর দেওয়ার পক্ষে আমার আবেদন রাখছি।

সবশেষে তিনি বলেন, বিশ্বভারতীর পরিদর্শক হিসেবে গর্ববোধ করছি। আমি অনেক প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু, বিশ্বভারতী এমন এক প্রতিষ্ঠান যেখানে বিশ্বের জনপ্রিয় চিন্তাবিদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

দুই দিনের সফরে সোমবার (২৭ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গে আসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম তাঁর বাংলায় আসা। গতকাল কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে নেতাজি ভবন যান এবং পরে জোড়াসাঁকোয় যান। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসভবন পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর দুপুরে রাজভবনে মধ্যাহ্নভোজন করেন। তারপর সন্ধ্যায় যান নেতাজি ইন্ডোরে। মূলত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মুকে নাগরিক সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশ সময়: ২১০০ ঘণ্টা, মার্চ ২৮, ২০২৩
ভিএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।