ঢাকা, বুধবার, ১০ বৈশাখ ১৪৩১, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

রায়পুরায় ডাক্তারের অবহেলায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪
রায়পুরায় ডাক্তারের অবহেলায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ 

নরসিংদী: নরসিংদীর রায়পুরায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ডাক্তারের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটেছে।

 

সাবিকুন্নাহারের ভাই মিজান বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে রায়পুরা উপজেলার তুলাতুলি পশ্চিমপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহর সঙ্গে আমার বোনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সাবিকুন্নাহারের প্রসব ব্যথা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্স প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাবিকুন্নাহার ও বাচ্চা সুস্থ আছে বলে জানান। এসময় আমরা সিজারিয়ান ডেলিভারির কথা বললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা প্রসব হবে বলে জানান। পরে সকালে প্রসব ব্যথা তীব্র হলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক ও নার্স মৃত বাচ্চা এনে পরিবারের লোকের হাতে দিয়ে জানান সাবিকুন্নাহার মৃত বাচ্চার জন্ম দিয়েছেন। এছাড়া ডেলিভারির পর তাকে হাঁটিয়ে বেডের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তার শরীর থেকে অনবরত রক্ত বেয়ে পরতে দেখে ট্রলির ব্যাপারে কথা বললে তারা বলেন নরমাল ডেলিভারিতে ট্রলি ব্যবহার করা হয় না।

পরে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এক পর্যায়ে আমি হাসপাতালে ট্রলিতে ধাক্কা দিলে সেখানকার কর্মরত একজন আমাকে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে আমার স্বজনরা আমাকে ছাড়িয়ে নেন। শুধু তাই নয় ওটিতে থাকা অবস্থায় আমার বোনকে এক নার্স চড় মারেন। আমরা বিষয়টা জানতে পেরে জিজ্ঞাসা করলে তারা আমাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে।

সাবিকুন্নাহার বলেন, রাতে ভর্তি করানোর পর আমাকে ব্যথা বাড়ানোর জন্য একটা ইনজেকশন পুশ করা হয় এবং বলা হয় ভোরে তারা আমাকে স্যালাইন দেবে। ভোরে আমার স্যালাইন লাগানোর জন্য ডাকলে তারা আমার মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। সকালে ব্যথা বাড়ার পর যখন আমাকে ওটিতে নেওয়া হয় তখন একজন আমার পেটে জোরে জোরে চাপ দিতে থাকে তখন আমার দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা হয়। একপর্যায়ে আমি তার হাতটা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে থাকা একজন আমাকে চড় মারে।

পরে আরেকজন বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল বাচ্চা নড়াচড়া করার কোনো ফিল আমি পাচ্ছি কি না, তখন আমি তাদের বাচ্চা নড়াচড়া করে বলে জানাই। পরে চড় মারা নার্স যখন আমাকে আবার পেটে জোরে চাপ দিয়ে জানতে চায় এখন বাচ্চা নড়ে কি না। তখন আমি বলি এখন তো তেমন কিছু বুঝতেছি না। তবে একটু আগেও নড়ছিল। তখন ওটিতে থাকা আরেকজন তাকে চাপ দিতে মানা করে তারপরও তিনি পেটে চাপ প্রয়োগ করে এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলতে থাকে। পেটে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের কারণের আমার বাচ্চাটা মারা গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত ডা. জেসমিন বলেন, বাচ্চার মায়ের কিন্তু নরমাল ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা ছিল না। স্বাভাবিক নিয়মেই বাচ্চা হয়েছে। বাচ্চা হওয়ার পর কাঁদে নাই এবং কোনো শ্বাস-প্রশ্বাসও নেয়নি তাই বাচ্চাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ওটিতে রোগীকে চড় মারার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তাদের বাচ্চা মারা গেছে, তারা কত কথায় বলবে। তবে চড় মারা বা খারাপ ব্যবহার এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ নূরউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।