ঢাকা, রবিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

উদ্যোগী তরুণদের জন্য ৮৩০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল

জাফর আহমদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪
উদ্যোগী তরুণদের জন্য ৮৩০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল

ঢাকা: চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হবে প্রযুক্তি নির্ভর তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে। তরুণরা সে চোখেই দেখছে ভবিষ্যতকে।

এমন স্বপ্নের কথা বলছে সরকারও। বলছে স্টার্টআপ উদ্যোগের কথা। সে অভীষ্ট লক্ষ্যকে ভর করে আর্থিক খাত থেকে চার শতাংশ সুদ হারে ঋণ নিতে পারবে, লাগবে না কোন জামানত বা কোন জামিনদার। পরিকল্পনা আর অভিজ্ঞতা থাকলেই মিলবে এ ঋণ।  প্রয়োজন মত তাদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে পণ্য বা সেবা উৎপাদনে এমন তরুণরা পরিকল্পনা দেখিয়ে মাত্র ৪ শতাংশ সুদ হারে ঋণ নিতে পারবেন। লাগবে শুধু পরিকল্পনা-যা প্রযুক্তিনির্ভর আর সৃজনশীল। আর তা হলে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে যে কোনো প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ । স্টার্টআপ  প্রকল্প থেকে এ ঋণের টাকা মিলবে।  

এই স্টার্টআপ তহবিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মুনাফার ১ শতাংশ করে টাকা জমা রাখছে। ৫২ ব্যাংক মিলে এ তহবিলের পরিমাণএখন প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা টাকা শেষ গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকা এই ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে নিতে পারবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দিবে দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সুদ। আর ব্যাংকগুলোর কাছে উদ্যোক্তারা পাবে ৪ শতাংশ সুদে।

স্টার্টআপ  তহবিল থেকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ শতাংশ তহবিল সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তথ্য বলছে, ৫২ ব্যাংকের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৭টি ব্যাংক এই তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করেছে। ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউসিবিএল, ইবিএল ব্যাংক স্টার্টআপ  ঋণ বিতরণে এগিয়ে রয়েছে।

নিজের মেধা ও বুদ্ধি  খাটিয়ে শৃজনশীল কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন, সেবা বা ট্রেডিং- শুরু করাই হলো স্টার্টআপ। যা হতে হবে মানুষের কল্যাণে। ১৩৩ এমন সৃজনশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পর্যন্ত ২৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।  

এ ঋণ নিয়ে তরুণদের স্বপ্ন পূরণে সারথি হতে পারে। যদিও শুরু থেকে দুই বছরে বড় ধরনের কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।  

এ সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, উদ্যোক্তাদের বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪৫ বছর।  ঋণের মেয়াদ হবে ৫ বছর। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার সম্মতির উপর নির্ভর করে ঋণের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো যাবে। ত্রৈমাসিক বা ষান্মাসিক ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে।

ব্যাংক থেকে স্টার্টআপ তহবিলের আবেদন করলেও, প্রতিষ্ঠানিক সহযোগিতা না পেলে এ ঋণ পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, যদি কম্পিউটার লাইনে কোন উদ্যোক্তা স্টার্টআপ তহবিল নিয়ে চায়; সেক্ষেত্রে বেসিসের মত সংগঠনের পৃষ্টোপোষকতা নিতে পারে।

সৃজনশীল এ ধরনের কাজে ঋণ দেবে কিন্তু টাকা ফেরত আসার আশা থাকবে না, এমন নয়। টাকা ফেরত আসতে হবে আবার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হোক এটাও চায় ব্যাংকগুলো। এ জন্য যে যেখাতে কোন ব্যবসা শুরু করবে- সেটা হতে পারে প্রযুক্তি নির্ভর বা অন্য কোন খাতে; এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেক্টরের ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে সুপারিশ করবে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সেই সংগঠন সুপারিশ করবে। তাহলে ঋণ কাজে লাগবে আবার ফেরতও আসবে বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঋণ একটু বুঝেসুঝেই দেওয়া উচিত। এটি হলো একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এখানে শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলোর সংশ্লিষ্টতা না করলে টাকা ফেরত আসবে না। স্ব-কম্যুনিটর লোকজন বা সংগঠনকে সংশ্লিষ্ট করা গেলে একটি নিরপেক্ষ প্রেশার তৈরি হবে। এ ধরনের প্রেশার ছাড়া টাকা ফেরত আসবে না। অতীতেও এমন তহবিল গঠন করা হয়েছিল। টাকা নিয়ে চলে গেছে, কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানও দাঁড়াতে পারে নি।

পূর্বে ইক্যুয়িটি দিয়ে এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমে ইইএফ নামে ঋণ প্রকল্পটি বাংলাদেশ ব্যাংকে থেকে পরিচালনা করা হতো। পরবর্তিতে সেটি আইসিবির মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রথমে ইক্যুয়িটি দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকই শেয়ার অনুপাতে তহবিল দিয়েছে। পরবর্তিতে আইন পরিবর্তন করে এ তহবিলকে একই সঙ্গে স্বল্প সুদের ঋণে রূপান্তর করার পাশাপাশি তহবিল পরিচালনা করার কর্তৃপক্ষ পরিবর্তন করে।  

নতুন স্টার্টআপ  তহবিল পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার করার তাগিদ দেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, একেবারে নতুন কোনো উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ট্রেডবডির প্রাথমিক সদস্য করে সেই ট্রেডবডির পক্ষ থেকে সুপারিশের ভিত্তিতে তহবিল ছাড় দেওয়া উচিত। তারপর একশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিলে এরমধ্যে একজন উদ্যোক্ত হিসেবে উঠে আসলে, বাকি নিরানব্বই জন যে লোকশান দেবে তার শতগুণ বেশি সুবিধা দেশ পাবে।   

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন এ সব স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিয়ে সৃজনশীল উদ্যোক্তা তৈরি করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তারা। কিন্তু প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর বড় একটি প্রশিক্ষণার্থী-দলের মধ্যে থেকে মাত্র দুইজন উদ্যোক্তা হওয়ার মত উপযুক্ত হয়েছে। বা ঋণ নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণে উদ্যোগী হয়েছে। বাকিরা হারিয়ে গেছে।

প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যোক্তা তৈরির যেসব যত্নকেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সম্ভাবনা আছে, ব্যবসা শুরু করতে চায়, এমন তরুণদের ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রটি।

এর মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দেবে স্টার্টআপ  প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রয়োজনে আরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন যাদের উদ্যোগের শুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আস্তে আস্তে তারা বড় উদ্যোক্তা হয়েছেন। এখন তারা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ভরসার স্থানে পরিণত হয়েছে। এই পথচলার ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার্টআপ ঋণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব পথই খুঁজছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ১১৩০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৯,২০২৪
জেডএ/এমএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।