ঢাকা, সোমবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

অশুভ শক্তি প্রতিরোধ করে মঙ্গল কামনায় বান্দরবানে নদী পূজা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৫৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
অশুভ শক্তি প্রতিরোধ করে মঙ্গল কামনায় বান্দরবানে নদী পূজা

বান্দরবান: যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করে সবার সুখ-শান্তি আর মঙ্গল কামনায় বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পালন করেছে নদী পূজা।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান রাজ পরিবারের আয়োজনে বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উজানী পাড়া সাংগু নদীর তীরে গিয়ে সমবেত হয়।

শোভাযাত্রায় বান্দরবান বোমাং রাজার পুত্র রাজকুমার চসিংপ্রু বনির নেতৃত্বে রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন মৌজার হেডম্যান ও কারবারিসহ (পাড়া প্রধান) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পূজারীরা অংশ নেন।

পরে সাংগু নদীর তীরে বটগাছ ও নদীর পানিতে পূজা করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন রকমের ফল উৎসর্গ করার পাশাপাশি মোমবাতি ও ধুপ জ্বালিয়ে পূজারীরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেন।

এ সময় নদীর ধারে বাঁশের তৈরি মাচাংয়ের ওপরে ফুল বিসর্জন করে দেবতার উদ্দেশে পূজা করা হয়। পরে সবাই পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরে পৃথিবীতে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্য বিশেষ প্রার্থনায় মিলিত হন।

প্রসঙ্গত: এক সময় সবুজে ঘেরা বান্দরবানের পাহাড় পরিবেশে অশুভ শক্তি প্রভাব বিস্তার করত। এতে পাড়ার বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত থাকতেন। তাই আদিকাল থেকে পাড়াবাসী বিশ্বাস করে আসছে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে নদী পূজা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। আর তাই প্রতিবছরই বৈশাখ মাসে মারমা সম্প্রদায়ের নববর্ষ ও সাংগ্রাইং উৎসব শেষে বান্দরবান রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এই নদী পূজার আয়োজন করা হয়। আর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সবাই এই আয়োজনে সামিল হয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সবার মঙ্গল প্রার্থনা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।