ঢাকা, সোমবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

চলাচলের পথে ব্যারিকেড, অবরুদ্ধ এতিম তিন ভাইবোনের পরিবার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০২৪
চলাচলের পথে ব্যারিকেড, অবরুদ্ধ এতিম তিন ভাইবোনের পরিবার

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে ব্যারিকেড দিয়ে এক বাড়ির ৮টি পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তিন এতিম ভাইবোনে একটি পরিবার।

 

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের পদ্মপুকুর পাড় বাড়িতে গিয়ে রাস্তায় ইট ও ত্রিপল দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সত্যতা দেখা যায়।

বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাড়ির সবাই প্রায় সাড়ে ৪ ফুটের একটি পথ ব্যবহার করে আসছে। প্রায় এক বছর আগে প্রবাস ফেরত হারুনুর রশিদ ও তার ভাই আমির হোসেন বাচ্চু ওই পথটি বন্ধ করে দেন। পথ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে দুই ভাই অন্যদের মামলা-হামলার হুমকি দেন।  

জানা গেছে, পদ্মপুকুরপাড় বাড়ির মৃত মোখলেছুর রহমানের ছয় ছেলে। পর্যায়ক্রমে সবাই পৃথক বসতঘর নির্মাণ করেন। তারাসহ ওই বাড়ির অন্যান্য পরিবারগুলোর জন্য পূর্বপুরুষের সময়কাল থেকে একটি পথ ছিল। এটি যৌথ পথ হিসেবে সবাই ব্যবহার করতো। মোখলেছুর রহমানের দ্বিতীয় ছেলে নাছির উদ্দিন মারা যান। নাছিরের সংসারে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সম্প্রতি তার ছেলে রবিন বিদেশ যায়। রবিন ও তার বোন ফারজানা আক্তারের স্বামী যৌথভাবে বাড়িতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন। ওই ভবনটি নির্মাণ নিয়ে রবিনের চাচা হারুন ও বাচ্চু বাধা দেন। এরপরও রবিনরা বসতঘরের ভবনটি নির্মাণকাজ শেষ করেন। এরমধ্যেই জমি পাওনা দাবি করে হারুন ও বাচ্চু প্রতিহিংসাবশত তাদের সদর দরজার সামনের পথে ইট ও ত্রিপল দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রবিন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালত সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার ঘটনাটি তদন্তের জন্য দত্তপাড়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। পরে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন।  

মৃত নাছির উদ্দিনের বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন, শহীদ উদ্দিন ও ছোট ভাই সালাহউদ্দিন মানিক জানায়, নাছিরের মৃত্যুতে তার ছেলে-মেয়ে এতিম হয়ে গেছে। এতে ভাতিজা-ভাতিজিদের দেখভাল করা তাদের দায়িত্ব। সাড়ে ৪ ফুটের পথটি প্রায় ৩০ বছর ধরে বাড়ির সবাই ব্যবহার করে আসছে। এরই মধ্যে তাদের দুই ভাই বাচ্চু ও হারুন পথটি বন্ধ করে দিয়ে অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। বাড়ি থেকে সবার বের হওয়ার পথ রয়েছে। এখন শুধু রবিনরাই পথ পাচ্ছে না। তারা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। পথটি নিয়ে আদালতে মিস মামলা দায়ের করলে সেটি স্থানীয় ইউপি ভূমি অফিস তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনের রেকর্ডিয় পথ নয় বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাড়ির ভেতরে যৌথ চলাচলের পথ সাধারণত রেকর্ড হয় না।  

ভুক্তভোগী রবিনের বোন ফারজানা আক্তার বলেন, আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। বাসা থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। পেছনের দরজা ব্যবহার করে অন্যের জমি দিয়ে কোনোভাবে চলাচল করতে হচ্ছে। পথটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। হারুন ও বাচ্চু চাচা জোরপূর্বক পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। পথটি উন্মুক্ত করে আমাদের চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ চাই।  

অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ বলেন, আমি পথ বন্ধ করিনি। জমিটি আমার। নাছিরের ছেলে রবিন পথের ওপরই ভবন নির্মাণ করেছে। পারিবারিকভাবে জমি বন্টন করতে বললে রবিনসহ আমার অন্য তিন ভাই রাজি হচ্ছে না। এজন্য রবিনদের ভবন নির্মাণে আমি বাধা দিই। তারা বাধা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ করেছে।  

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা আক্তার (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে আমার কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে- চলাচলের পথটি রেকর্ডভুক্ত কি না। আমি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছি। সেখানে তালিকাভুক্ত পথ নেই। তবে বাড়ির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পথটি ব্যবহার করেছে। এটি সমঝোতার বিষয়। পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমঝোতা করে পথটি উন্মুক্ত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৪, ২০২৪
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।