ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৩ জুন ২০২৪, ০৫ জিলহজ ১৪৪৫

জাতীয়

পরিকল্পিতভাবে বাবাকে হত্যা করা হয়েছে: আনারকন্যা ডরিন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১১২ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০২৪
পরিকল্পিতভাবে বাবাকে হত্যা করা হয়েছে: আনারকন্যা ডরিন

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ-৪ কালীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘প্রি-প্লানিং করে আমার বাবাকে এভাবে কেটে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আকতারুজ্জামান শাহীন তাকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসুন।

কান টানলেই মাথা আসবে।

ডরিন বলেন, আমার বাবা কালীগঞ্জ শহরে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাজনীতি করে আসছিলেন। তার রাজনৈতিক অরাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকতেই পারে।

নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে শুক্রবার (২৪ মে) ভোরে কালীগঞ্জের নিজ বাসায় ফিরে আসেন মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন, তার মা ইয়াসমিন ফেরদৌস শেফালী ও এমপির পিএস আব্দুর রউফ। এসময় স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক হৃদয় বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাবা হারা সন্তানের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পুরো এলাকা।

আনারকন্যা ডরিন বলেন, মৃত বাবাকে এভাবে কেটে টুকরো টুকরো করল। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো জীবনে কোনোদিন ভুলতে পারবো না এই নৃশংসতার কথা। সামান্য হাত কেটে গেলেও আমরা বলি কি ব্যথা! সহ্য করতে পারছি না! মৃত ব্যক্তির শরীরে ব্যথা লাগবে বলে আস্তে আস্তে গোসল করানো হয়। আর কেন ওরা আমার বাবাকে এত আঘাত দিয়ে হত্যা করলো? আল্লাহ তাদের বিচার করবে। আমি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

তিনি তিনি আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার বাবার জনপ্রিয়তা দেখে তাকে আটকানোর জন্য, মেরে ফেলার জন্য বিএনপি তার নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। ওই সময় আমার বাবা ষড়যন্ত্রের কারণে ১৪ বছর আমাদের কাছে আসতে পারেননি। আমার বাবাকে কাছে পায়নি। পরে সেসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন। তাকে গ্রেপ্তার করে যদি দেশে আনা যায় তাহলে কেন এমপিকে হত্যা করা হলো, কারা কারা জড়িত সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এমপির মরদেহের একটি টুকরো হলেও দেখতে চাই। আর তার হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্থানীয়দের।

কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কালীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিবলী নোমানী জানান, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার মোটরসাইকেলে করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিতেন। তারমতো এমপি কালীগঞ্জ উপজেলায় আমরা হয়ত আর পাবো না। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টমূলক বিচারের দাবিসহ এমপির মরদেহ খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।  

উল্লেখ্য, গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। ১৩ মে তাকে কৌশলে কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যারকারীদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন।  

বাংলাদেশ সময়: ২১১২ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০২৪
এসএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।