রোববার (১৮ মার্চ) সকালে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের রব বাজার এলাকায় ভুলুয়া নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদীর অপর পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। নদী পার হয়ে ইটভাটায় যাওয়ার জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই।
তাই ভাটার মালিক যাতায়াত সুবিধার্থে নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেন। নদীর দুই পাড় থেকে মাটি কেটেই নির্মিত হয়েছে এ রাস্তা। নবনির্মিত রাস্তাটি দিয়ে শক্তিশালী ট্রাক্টর-ট্রলির মাধ্যমে ইট ও মাটি পরিবহনের পায়তারা চলছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
জানা যায়, ওই ইটভাটার মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আজিজুল হক ফারুক। তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৃষিজমির ওপর ইটের ভাটা তৈরি করেন। আগে নৌকার মাধ্যমে ইট ও মাটি আনা-নেওয়া করলেও এবার নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন তিনি। বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয় কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে আশপাশের উর্বর মাটি হাতিয়ে নিচ্ছেন।
চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল হান্নানসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় আগামী বর্ষায় আশপাশের ঘরবাড়িগুলোতে পানি ঢুকে যেতে পারে। এতে দুর্ভোগে পড়বে শত শত পরিবার। ডুবে যাবে কয়েক হাজার একর ফসলীজমি। আবার শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের কারণে পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকবে না। ফলে সয়াবিন, মরিচ, তরমুজসহ বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে ভাটা মালিকের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান অনেকে।
এ ব্যাপারে জানতে ইটভাটার মালিক আজিজুল হক ফারুকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে, তিনি ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
স্থানীয় চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খালেদ মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার বিষয়টি শুনেছি। ইচ্ছা করলেই কেউ নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে পারে না। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে।
কমলনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একেএম ছায়েদের রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে বাঁধ দেওয়ার সত্যতা পাই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় : ১২১৬ ঘণ্টা, মার্চ ১৮, ২০১৮
এসআর/এনএইচটি