ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ মাঘ ১৪২৯, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০ রজব ১৪৪৪

জাতীয়

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো: শেখ হাসিনা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১০, ২০২২
দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো: শেখ হাসিনা

ঢাকা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা- দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুক্ত স্বদেশে জাতির পিতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে (ভার্চ্যুয়াল) এ কথা বলেন তিনি।

রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) শহীদ মনিরুল আলম মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এটাই আজকে লক্ষ্য, যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত করে সোনার বাংলা গড়ে তোলা, আজকের দিনে সেই প্রত্যয়ই ব্যক্ত করছি।

বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বলেন, ইনশাল্লাহ যতটুকু পারি জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের দুঃখী মানুষ তাদের ভাগ্যটা পরিবর্তন করে দিয়ে যাওয়া। দেশবাসীকে আমি সেই আহ্বানই জানাই। আজকে যে অগ্রগতি হয়েছে এটা ধরে রেখেই যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই যে আদর্শের জন্য তিনি দেশ স্বাধীন করেছিলেন, যে লক্ষ্যে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছিলেন, জেল-জুলুম-অত্যাচার বার বার সহ্য করেছেন, নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন যে মানুষগুলোর জন্য সেই মানুষগুলোর ভাগ্য গড়া আমাদের লক্ষ্য।

পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেওয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি, তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, বার বার আমি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।  

জনগণের প্রতি ভালোবাসার কারণেই বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরেই সোজা জনগণের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো কথা না ভেবে তিনি চলে গেছেন সোজা তার প্রিয় জনগণের কাছে। যে জনগণের জন্য তিনি তার জীবনটা উৎসর্গ করেছেন।

দেশে ফিরেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ ভাষণটা ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এ ভাষণটা ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র কাঠামো কী রকম হবে, স্বাধীন রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, স্বাধীন রাষ্ট্রকে কীভাবে কোন আদর্শে চলবে সেই আদর্শই তিনি এ ভাষণে দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু কখনো মৃত্যুকে ভয় পেতেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে এটাও বলেছিলেন যখন তাকে ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ হয়, তখন একটি দাবি তিনি শুধু করেছিলেন যে আমাকে তোমরা মেরে ফেলতে পারো। কিন্তু আমার লাশটা আমার বাঙালির কাছে পৌঁছে দিও। আমার বাংলার মাটিতে পৌঁছে দিও। তিনি যেই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন সেই ভাষণে যে আমি মুসলমান, মুসলমান একবার মরে, বারবার মরে না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ আঘাতটা শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা না। এ আঘাতটা ছিল একটা স্বাধীন দেশের আদর্শকে হত্যা করা, চেতনাকে হত্যা করা।

ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস ১৪ দিন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিজীবন শেষে ১৯৭২ সালের এদিনে জাতির পিতা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।  

এর আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। গ্রেফতারের পর বঙ্গবন্ধুকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ মার্চ রাতেই নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায় হানাদার বাহিনী।  

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। বিজয়ের পর বিশ্ব জনমতের চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তির পর বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে সদ্য স্বাধীন দেশের রাজধানী ঢাকায় আসেন।

দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যান। সেখানে তিনি রক্তাক্ত যুদ্ধে বিজয়ী স্বাধীন জাতির উদ্দেশে প্রায় ২০ মিনিটের আবেগগণ ভাষণ দেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুক্ত স্বদেশে জাতির পিতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মহিউদ্দিন আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার লেখা দুটি কবিতা ‘বাবা’ ও ‘রেনু আমার মা’ আবৃত্তি করেন প্রখ্যাত আবৃত্তিকার সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪২ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১০, ২০২২
এমইউএম/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa