ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

রাজনীতি

সরকার গ্রেফতারের পুরনো খেলা শুরু করেছে: ড. মোশাররফ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩৭ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২৩
সরকার গ্রেফতারের পুরনো খেলা শুরু করেছে: ড. মোশাররফ

ঢাকা: সরকার ফের গ্রেফতারের পুরনো খেলা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার (২০ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কবি আবদুল হাই শিকদার।

ড. মোশররফ বলেন, সরকার সেই পুরনো খেলা, সেই পুরনো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এখন ওরা নতুন নতুন বানোয়াট মামলা দিচ্ছে। গতকাল রাতে বনানী ক্লাবে একটা সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে আমাদের মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও শ্রীপুর বিএনপির ৫৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। কী পরিমাণ স্বৈরাচারী মানসিকতা হলে এটা সরকার করতে পারে। কিন্তু এসব বানোয়াট মামলা করে, ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। আজকে এইসব ষড়যন্ত্র জনগণের কাছে ধরা পড়ে গেছে, আন্তর্জাতিকভাবে ধরা পড়ে গেছে। তাদের অনতিবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, গুম-খুন, অন্যায়-অত্যাচার, চাঁদাবাজি এসবের কারণে দেশ শান্তি থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। আজকে আন্তর্জাতিক সুখি দিবসে ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ সুখি দেশের তালিকায় ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১১৮তম স্থানে আছে। এ থেকে বোঝা যায় মানুষ কী পরিমাণ অশান্তিতে আছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা শুনবেন, দেশের অর্থনীতি ভালো, দেশের মানুষ সুখে আছে, কেউ না খেয়ে থাকে না, সব কিছু ভালো। সুখ এতটুকুই ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১১৮তম স্থানে আছে।

সরকারের মন্ত্রীরা মিথ্যাচার করে জনগণকে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ১/১১ ছিল বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। গায়ের জোরে অসাংবিধানিক সরকার ছিল সেটি। বিএনপিকে সম্পূর্ণভাবে ধবংস করে দেয়ার জন্য তারা নামে মাইনাস টু থিওরি ও বিরাজনীতিকরণের কথা বলে কিন্তু ওপেনলি ক্ষমতায় এসেছিল। মাইনাস টু তারা বোঝাতে চেয়েছিল এর মধ্যে শেখ হাসিনার নাম আছে। কিন্তু আসলে তা না। মাইনাস টু ছিল মাইনাস বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। আর বিরাজনীতিকরণের অর্থ ছিল বিএনপিকে সম্পূর্ণভাবে ধবংস করে দেওয়া। সেই সময়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহসের সাথে সংগঠনের হাল ধরেছেন।

খোন্দকার দেলোয়ার বিএনপির দুঃসময়ে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দলের নেতা-কর্মীরা সবসময় তাকে স্মরণ রাখবে বলে জানান তিনি।

মহানগর বিএনপি নেতা হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইছহাক সরকার, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, খোন্দকার আবদুল হামিদ পবন এবং মেয়ে ডা. দেলোয়ারা হোসেন পান্না বক্তব্য রাখেন।

২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৬ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২৩
এমএইচ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।