ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩১, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

ভারত

মধ্যবিত্তর মন জয়ের বাজেট ভারতে, অখুশি মমতা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩
মধ্যবিত্তর মন জয়ের বাজেট ভারতে, অখুশি মমতা

কলকাতা: ভারতে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট। তার আগে দেশটির নয় রাজ্যে বিধানসভা ভোটও রয়েছে।

এই আবহে চলতি আর্থিক বর্ষে বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মোট সাতটি উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করেই বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নির্মলা সীতারামন বলেছেন, ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি। ২০৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতকে পথ দেখাবে এবারের বাজেট। উন্নতির শেষ সীমা পর্যন্ত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই বাজেট।

অন্যদিকে নির্বাচনের আগে এবার মধ্যবিত্তদের মন জয় করাই উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর। তা মাথায় রেখে, এবারের বাজেটে বার্ষিক আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। বার্ষিক আয় ৫ লাখের পরিবর্তে এবারে ঊর্ধ্বসীমা করা হয়েছে ৭ লাখ রুপি। অর্থাৎ ৭ লাখ রুপি বার্ষিক আয় পর্যন্ত কোনোরকম কর দিতে হবে না। এছাড়া বার্ষিক আয়ের ওপর আরও কয়েকধাপ ছাড় দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীন নাগরিকদের জন্যও কিছু স্কিম আনা হয়েছে।

এছাড়া কৃষকদের কল্যাণ ও গ্রিন এনার্জিতে জোর দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে পড়া জনজাতিগুলির উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গড়ে তোলা হবে বলেও চলতি বাজেটে জানিয়েছেন নির্মলা। তবে প্রতি বছরের মতোই এবারের বাজেটেও রেল সম্পর্কে তেমন বড়সড় কিছু ঘোষণা করা হয়নি। নেই নতুন কোনও রুটে রেলের ঘোষণা। শুধু জানানো হয়েছে, ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি রেলে বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া ৫০টি বিমানবন্দরের আধুনীকিকরণ হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ট্যুরিজমের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ব্যাংকিং পরিষেবার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। ব্যাংকিং পরিষেবার মান উন্নত করায় জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকে নারী সম্মান সেভিংস সার্টিফিকেট স্কিম চালু হবে বলে জানান ভারতের অর্থমন্ত্রী। একইভাবে রপ্তানি, পরিষেবা বান্ধব এনার্জিতে জোর দেওয়া হয়েছে। রসায়ণ শিল্পের কিছুক্ষেত্রে কাস্টম ডিউটি কমানো হয়েছে।  

এছাড়া টেলিভিশনের যন্ত্রাংশর দাম কমানো হয়েছে। ফলে টিভির দাম কমবে। মোবাইলের যন্ত্রাংশের উপর অন্তঃশুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কমবে মোবাইলের দাম। তবে কিচেন চিমনির ওপর কাস্টমস ডিউটি বাড়ানো হয়েছে। কমবে ক্যামেরার লেন্সের দামও। শিশুদের দেশি খেলনার দাম কমানো হয়েছে। দেশি সাইকেলের দামও কমেছে। তবে বিদেশি ইলেকট্রিক গাড়ির দাম বাড়ানো হচ্ছে। কমানো হয়েছে লিথিয়াম ব্যাটারির দাম। ১৬ শতাংশ কর বাড়ানো হয়েছে সিগারেটের দামের ওপর। এছাড়া স্বর্ণ ও প্লাটিনামে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। রুপার দাম বাড়তে চলেছে। কমবে হিরার দাম। ইমিটেশন গহনার দাম বাড়তে চলেছে। তামার ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বাজেটকে জনবিরোধী আখ্যায়িত করে ধিক্কার জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিমত, এই বাজেটে আসার আলো নেই, অমাবস্যার মতো অন্ধকার আছে। এই বাজেটে একশ্রেণীর লাভ হবে কিন্তু দরিদ্ররা বঞ্চিত হয়েছেন। মমতা বলেছেন, আজকে ওরা যে বাজেট করেছে সেটা যদি আমায় করতে দিত, তবে আধঘণ্টা সময় নিতাম। কিভাবে গরিব লোক ও সাধারণ মানুষের বাজেট করতে হয় বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে হয় সেটা আমি জানি। আমিও অনেক দপ্তরে কাজ করে এসেছি, আমরাও বাজেট করি, আমরা ট্যাক্স বাড়াই না, যাতে মানুষের কষ্ট না হয় বরং আমরা মানুষকে সাহায্য করি। কারণ মানুষই আমাদের গণদেবতা।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৩
ভিএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।