ঢাকা, রবিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২১ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

সেই বাসন্তীর বাড়ি গিয়েছিলাম: শেখ হাসিনা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০২৩
সেই বাসন্তীর বাড়ি গিয়েছিলাম: শেখ হাসিনা

ঢাকা: ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় জাল পরা ছবির সেই বাসন্তীর চিলমারীর জেলেপাড়ার বাড়ি গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাল পরার সেই ঘটনাকে তিনি সাজানো বলে দাবি করেছেন।

 

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় আনীত প্রস্তাবের (সাধারণ) ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাসন্তীকে জাল পরিয়ে ছবি তুলে একটা মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। যখন চালের দাম ছিল দেড়শ টাকা। বোধ হয় সাত, আট টাকা বা ১০ টাকায় একখানা শাড়িও পাওয়া যেত, কাপড় পাওয়া যেত। কিন্তু সেটাকে বড় করে ফলাও প্রচার করে একটা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হলো।

তিনি বলেন, চিলমারীতে নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে সেই বাসন্তীর বাড়ি আমি গিয়েছি। কারণ আমার দেখার ইচ্ছে ছিল যে আমার বাবার রক্ত নিয়ে বাসন্তীর বাড়িতে দালান উঠেছে কিনা বা বাসন্তী বেনারসি শাড়ি পড়ে পোলাও-কোরমা খায় কিনা। আমি একটু দেখে আসি। ভাঙা বেড়ার একটা ঘর, বাসন্তীর মা পড়ে আছে, মাছি বন বন করছে, বাসন্তী একটা পাগলি মেয়ে বাইরে বসে আছে।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরে যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের সময়েও কেন বাসন্তীর অবস্থার পরিবর্তন হয়নি প্রশ্ন করে শেখ হাসিনা বলেন, যে সাংবাদিক এ জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল ইত্তেফাকের সাংবাদিককে, আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার একটি ইচ্ছে ছিল সেও একটু দেখুক। আমি জিজ্ঞেস করলাম কই বাসন্তীদের তো কোনো অবস্থা ফেরেনি। কেন ফিরল না? সে জবাব আমাকে কে দেবে যে বাসন্তীর অবস্থা ফেরেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা যদি বেঁচে থাকতেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তো বাসন্তীদের ওই অবস্থা থাকতো না। স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে এ বাংলাদেশকে তিনি দারিদ্রমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতেন। সেই পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে মানুষের দরজায় ক্ষমতা পৌঁছে দেওয়া, প্রত্যেক মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করে তিনি উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন প্রতিটি এলাকায় যেন উন্নত হয়ে ওঠে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, কারেন্সি নোট নেই, রিজার্ভে এক পয়সা টাকা নেই, সমস্ত রাস্তাঘাট ভাঙা। সব স্কুল-কলেজ-মসজিদ-মাদ্রাসা বিধ্বস্ত, সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে তিনি এ দেশটাকে গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট এর পর কী হয়েছিল? আর কী দেশ এগুতে পেরেছিল। তিনিতো প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশের ওপরে তুলেছিলেন। আজ পর্যন্ত তো আমরা নয় শতাংশ অর্জন করতে পারিনি। হ্যাঁ আওয়ামী লীগ আসার পর আমরা আট শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম। কিন্তু এরপরে যারাই ক্ষমতা এসেছে জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ, খালেদা জিয়া দুই দুবার, তারা বাংলাদেশকে তো অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ, আসলে একটা প্রদেশ ছিল। সেটাকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা, তার ওপর বিধ্বস্ত অর্থনীতি। একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি এ দেশটাকে গড়ে তুললেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর পেয়েছিলেন তিনি হাতে। এ সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে সবকিছু সচল করা, এ কঠিন দায়িত্বটা তিনি পালন করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তখনই চক্রান্ত হয়, খাদ্য জাহাজ ফিরিয়ে দিয়ে চক্রান্ত করে এখানে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়।

তিনি বলেন, ৮১ সালে বাংলাদেশে আসার পর বোধ হয় প্রতিবছর উত্তরবঙ্গে দুর্ভিক্ষ লেগে থাকতো। যেহেতু দুর্ভিক্ষটা শেষ সময় ইচ্ছে করে হয়েছিল তাই আমি দেশে ফিরে আসার পর যখনই উত্তরবঙ্গে মঙ্গা শুরু হয়েছিল আমি নিজে সফরে গিয়েছি। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লঙ্গরখানা খুলেছি, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমার এটাই প্রশ্ন ছিল এ রকম দুর্ভিক্ষ প্রতিনিয়ত হয়ে যাচ্ছে। ৭৫ এর পর আমার বাবার রক্ত নিয়ে তো কেউ দুর্ভিক্ষ বন্ধ করেনি।

বাংলাদেশ সময়: ০০২০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১১, ২০২২
এমইউএম/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।