ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

১৭ খামে সাদা কাগজ, দাতা সদস্য নির্বাচন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩
১৭ খামে সাদা কাগজ, দাতা সদস্য নির্বাচন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ছবি: বাংলানিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: লাগামহীন অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। দিনের পর দিন বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিচে দিকে আসা, পরিচালনা কমিটির অপতৎপরতা এবং সবশেষ দাতা সদস্য নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

 

এসব ঘটনায় সম্প্রতি সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার নাগরিক সমাজের সভাপতি ফিদা হোসেন রুবেল ও দাতা সদস্য প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বাদল। তারা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অকৃতকার্যদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং দাতা সদস্য নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন।

জানা যায়, গত ১৬ জুলাই কুট্টাপাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিভাবক প্রতিনিধি কমিটি কর্তৃক দাতা সদস্য সংগ্রহের জন্য প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে একটি নোটিশ জারি করেন।  নোটিশে, স্থায়ী দাতা সদস্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং এককালীন দাতা সদস্যের জন্য ২০ হাজার টাকা জমা করার জন্য ব্যাংক ড্রাফট করার কথা বলা হয়। অথচ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়মে এক্ষেত্রে ব্যাংক ড্রাফটের কোনো নিয়ম নেই। এতে একাধিক দাতা সদস্য প্রার্থী ব্যাংক ড্রাফট করতে না পেরে ফিরে আসেন।

পরে রতন বক্স নামে একজন দাতা সদস্য প্রার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর ব্যাংক ড্রাফট প্রচলিত নয় জানিয়ে পে-অর্ডারের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে নতুন নোটিশ জারি করার জন্য লিখিতভাবে জানান। তবে প্রধান শিক্ষক বলেন, ব্যাংক ড্রাফট ব্যতীত অন্য কিছু থাকলে তা নেওয়া হবে না। প্রজ্ঞাপনের নোটিশকে অনুসরণ করা হবে। গত ৪ সেপ্টেম্বর অভিভাবক সদস্যদের উপস্থিতিতে বাক্স খোলা হলে দেখা যায়, এতে ২০টি খাম জমা পড়েছে। যার মধ্যে ১৭ টিতে কোনো ব্যাংক ড্রাফট, পে অর্ডার, চেক বা নগদ অর্থ কিছুই ছিল না। খামগুলো সাদা কাগজে ভর্তি ছিল। আর বাকি তিনটি খামে ছিল এনসিসি ব্যাংকের পে-অর্ডার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাক্স সিলগালা করার আগেই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য হোসেন আলী তিনটি খাম বাক্সে ফেলেন। আর বাকি ১৭টি খাম সম্মিলিতভাবে ফেলেন হোসেন আলীর ছেলে মিশাল ও অপর সদস্য সাইদুল ইসলাম বাশার।

অভিযোগে বলা হয়, এই মহলটি নিজেদের মধ্যে দাতা সদস্য নির্বাচিত করতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এই কৌশল অবলম্বন করে প্রতারণা করেছে। নিয়মানুসারে, ওই গোপন বাক্সের সামনে বিদ্যালয়ের প্রহরী ছাড়া অন্য কেউ থাকার কথা না। তবে বাস্তবে চিত্র ছিল ভিন্ন। ওই গোপন বাক্সের সামনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তিন সদস্যের অবাধ বিচরণ ছিল। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হোসেন আলীর ছেলে মিশেলকে সকাল থেকেই বাক্সের সম্মুখে পাহারারত রাখা হয়। যাতে অন্য কেউ ব্যাংক ড্রাফট ফেলতে না পারে এবং কেউ দিলেও সেটা যেন গণনা করতে পারে। পরিচালনা কমিটির সদস্য হোসেন আলীকে দাতা সদস্য করতেই তারা এই কৌশল নেয়।

এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ফলে অংশ নেওয়া ১৪৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে কেবলমাত্র ৩২ জন পাশ করে।

এদিকে, ঘটনা জানাজানির পর ১৪ সেপ্টেম্বর সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান ও কুট্টাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিক উদ্দিন ঠাকুর উপজেলা অফিসে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে গোপনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে জানতে রফিক উদ্দিন ঠাকুরকে তার মোবাইলফোনে ফোন দেওয়া হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যালয় ঘোষিত নোটিশে পে-অর্ডারের কথা উল্লেখ না থাকলেও কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে জমা পড়া তিনটি পে-অর্ডারকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

তবে গোপন বাক্সে খামের ভেতরে ১৭টি সাদা কাগজ জমা পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় কমিটির সভায় আমরা নিন্দা প্রস্তাব তু্লেছি। ভবিষ্যতে যেন এ কাজ কেউ না করতে পারে বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে।

কুট্টাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম বলেন, দাতা সদস্য সংগ্রহের বিষয়টি আপাতত শিথিল রয়েছে। ভুয়া কাগজ পেয়ে সেগুলো রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩
এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।