ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৪ মে ২০২৪, ১৫ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে এমন পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি কিনছে ডিএনসিসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২৪
এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে এমন পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি কিনছে ডিএনসিসি

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, পুরনো টায়ার, কমোড, রঙের কৌটা এগুলো ছাদে বা বারান্দায় না রেখে আমাদের কাউন্সিলরদের কাছে জমা দিয়ে টাকা নিন।

সোমবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর রূপনগর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

 

আতিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ডিএনসিসির সব ওয়ার্ডে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান শুরু করেছি। মানুষকে সচেতন করছি। তবে আগামী ২৭ এপ্রিল তারিখ থেকে কোনো বাসায় বা অফিসে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জেল ও জরিমানা করা হবে। সরকারি অফিসেও যদি লার্ভা পাওয়া যায় সে অফিসের যিনি দায়িত্বে আছেন তার বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা হবে। এমনকি আমার সিটি করপোরেশনের কোনো অফিসেও যদি লার্ভা পাওয়া যায়, সেই অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

তিনি বলেন, লার্ভা পেলে মামলা, জেল ও জরিমানা হবে। জরিমানার টাকার পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমাদের আরও ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছি, ঈদের পর থেকে ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ৫৪টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করব। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে। তারা সবসময় আমাদের পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।

মেয়র বলেন, আমাদের কীটতত্ত্ববিদরা বলেছেন, এখন থেকেই মাঠে নামতে। তাই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনারা সচেতন হলে জেল-জরিমানা, মামলার দরকার নাই। তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন। এডিস মশা জন্মাতে পারে এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন। এডিস মশা কামড় না দিলে ডেঙ্গু হবে না। সচেতন হয়ে নিরাপদ থাকুন, অন্যকেও নিরাপদ রাখুন।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল ও ড্রেনের ময়লা পানিতে এডিস মশা জন্মায় না। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে জন্মায়। যেসব পরিত্যক্ত দ্রব্যাদিতে পানি জমে লার্ভা জন্মাতে পারে, সেসব দ্রব্যাদি সিটি করপোরেশন কিনে নিচ্ছে। ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, দইয়ের কাপ এগুলো যত্রতত্র না ফেলে ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের কাছে জাম দিয়ে নগদ টাকা নিন।

তিনি আরও বলেন, ডিএনসিসির সব ওয়ার্ডে একযোগে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রত্যেক কাউন্সিলরকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলররা নিজ নিজ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, মসজিদের ইমাম, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি আয়োজন করবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার ব্যবস্থা করবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর বাসা ও আশপাশের এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীকে মশা কামড় দেওয়ার পরে অন্যকে কামড়ালে ডেঙ্গু হয়। তাই রোগী চিহ্নিত হলে তার আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও সতর্ক থাকা জরুরি।

ডিএনসিসি মেয়রের উপদেষ্টা ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসার বলেন, আমি সকালে এই এলাকার কয়েকটি বাড়ি পরিদর্শন করেছি। একটি বাড়িতে পরিত্যক্ত টায়ারে অসংখ্য লার্ভা পেয়েছি। দেখুন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কিন্তু বাড়ির ভেতরে পরিত্যক্ত টায়ার খুঁজে পাবে না। আমাদের নিজেদেরই এসব পরিষ্কার করতে হবে।

ডিএনসিসির মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান উদ্বোধন শেষে ডিএনসিসি মেয়র এডিস মশার উৎসস্থল- পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, মাটির পাত্র, খাবারের প্যাকেট, অব্যবহৃত কমোড এগুলো দেখিয়ে জনগণকে সচেতন করেন এবং পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি ক্রয়ের মাধ্যমে কার্যক্রমটি উদ্বোধন করেন।

পরে ডিএনসিসি মেয়র অন্যান্য অতিথি, স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্য এবং কাউন্সিলরসহ সবাইকে নিয়ে র‍্যালিতে অংশ নেন। সচেতনতামূলক র‍্যালিটি রূপনগর ২৩ নম্বর সড়ক হয়ে প্রধান সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে ডিএনসিসি মেয়র জনসাধারণের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তফাজ্জল হোসেন টেনুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর শিখা চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি ও সেগুলো সংগ্রহের জন্য মূল্য তালিকা: চিপসের প্যাকেট/সমজাতীয় প্যাকেট (প্রতিটি) ১ টাকা, আইসক্রিমের কাপ, ডিসপেজেবল গ্লাস/কাপ (প্রতিটি) ১ টাকা, ডাবের খোসা (প্রতিটি) ২ টাকা, কন্ডেন্স মিল্কের কৌটা (প্রতিটি) ২ টাকা, প্লাস্টিক/সিরামিক/মেলামাইনের জিনিসপত্র (প্রতিটি) ৩ টাকা, অন্যান্য পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের দ্রব্যাদি (প্রতি কেজি) ১০ টাকা, পরিত্যক্ত টায়ার (প্রতিটি) ৫০ টাকা, পরিত্যক্ত পলিথিন (প্রতি কেজি) ১০ টাকা, পরিত্যক্ত স্যানিটারি ওয়্যার কমোড, বেসিন ইত্যাদি (প্রতিটি) ১০০ টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২৪
এমএমআই/এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।