ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২০ মে ২০২৪, ১১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

রাজধানীতে ঝুঁকির মধ্যে ৫০০০ ভবন অপসারণে নানা বাধার কথা জানালেন রাজউক চেয়ারম্যান

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৪৫ ঘণ্টা, জুন ৬, ২০১০

ঢাকা : রাজধানীতে ৫ হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে সেগুলো ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ নূরুল হুদা।

বুধবার দুপুরে রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) কার্যালয়ে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজধানীতে ধ্বসে পড়ার মতো ঝুঁকির মধ্যে আছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভবন।

এসব ভবন চিহ্নিত করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমান প্রশাসন এই ভবনসমূহ অপসারণে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে এগারোটায় তেজগাঁয়ের মধ্য বেগুনবাড়িতে একটি পাঁচতলা ভবন হঠাৎ উপড়ে পড়ে। ভবনটির নিচে চাপা পড়ে চারটি তিনতলা টিনশেড বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় কয়েক শ’ মানুষ টিনশেডের ওই বাড়িগুলোতে বসবাস করত। রাতেই সেনাবাহিনী, র‌্যাব, দমকল বাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করে। বুধবার বিকেল পর্যন্ত সর্বমোট ২১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জনৈক আব্বাসউদ্দিন নামে একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ওই ভবনটির মালিক। সেনাবাহিনীর ইমারত বিশেষজ্ঞরা জানান, ধ্বসে পড়া ভবনটির কোনো ধরণের নির্মাণ পরিকল্পনাতো ছিলই না, উপরন্তু বিলের ওপর পাইলিং ছাড়াই কেবল পিলার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুরো রাজধানীতে এরকম ত্রুটিপূর্ণ ভবনগুলোর কোনো নির্মাণ পরিকল্পনা নেই। অনেকে পরিকল্পনা নিলেও সে হিসেবে কাজ করেন না। এমন অনেক ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভবনের নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের কথা থাকলেও তা নেই।

গতকালের ধ্বসে পড়া ভবনটি গড়ে উঠেছে হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পের সরকারি খাস জমিতে। কীভাবে এই অবৈধ বসতি গড়ে উঠলো প্রশ্ন করা হলে তিনি রাজউকের পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের অসাধু কার্যকলাপের অভিযোগ এনে বলেন, ওই এলাকার প্রায় অধিকাংশই সরকারি, রাজউক, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে ও রেলওয়ের খাসজমি। এসব এলাকায় আদালতের রায় সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে অবৈধভাবে ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ রাজউকের নগর পরিকল্পনায় কোথায় আবাসিক এলাকা, কোথায় শিল্পাঞ্চল, কোথায় খাল প্রবাহিত হবে তা উল্লেখ্য ছিল। পূর্ববর্তী কিছু অসাধু কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে আজ আর ঢাকাকে ওই পরিকল্পনামত সাজানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

অবৈধ এবং ত্রুটিপূর্ণ এসব ভবন নিয়ে রাজউকের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, এসব ভবন অপসারণে বেশ কয়েকবার  উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানান আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পে মাঝে মাঝেই অপসারণ কার্যক্রম চলছে, এমন দাবি করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বেশকিছু ভবন অপসারণ করা হয়েছে। এর ফলে আজ অন্তত এই প্রকল্পের রাস্তাটুকু বের হয়ে এসেছে। তবে মাসে অন্তত দু’বার ওই্ এলাকায় অভিযান চালানোর কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কারণ যখনই অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হয় তখনই বিভিন্ন  বাধা ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়ে।  

রাজউক চেয়ারম্যান লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজউকের আওতায় রয়েছে প্রায় ৫৯০ বর্গমাইল এলাকা। এ আয়তনের অঞ্চল মনিটরিংয়ের জন্য অন্তত ১৬ জন অথরাইজড অফিসার দরকার। অথচ বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র আটজন আর ম্যাজিস্ট্রেট আছেন মাত্র দুইজন। এই স্বল্প সংখ্যক লোকবল নিয়েই যতটুকু পরিকল্পনা পাশ করানো হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে পরিকল্পনামাফিক কাজ করা হচ্ছে না সেখানে সাধ্যমত বাধা দেওয়া হচ্ছে।

কবে নাগাদ এসব শূন্যপদে লোক নিয়োগ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন শিগগিরই এ সেক্টরে লোকবল বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় : ১৮১৫ ঘন্টা, জুন ২, ২০১০।
এমএইচকিউ/এজে/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।